ঢাকা ০৩:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরের জনপ্রিয় ফুটবলার থেকে টিটন হয়ে উঠেন শীর্ষ সন্ত্রাসী বাড়িতে ফিরলো মরদেহ পটিয়ায়   গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতি সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত  আলীকদমে অবৈধ ইটভাটায় সাঁড়াশি অভিযান: ৩ ভাটায় ৬ লক্ষ টাকা জরিমানা যশোরের টিটন ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী গুলিতে নিহত কক্সবাজারের ইনানীতে ৫০ কেজি গাঁজাসহ আটক ১ বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল বাবার, কোল থেকে ছিটকে প্রাণে বাঁচল শিশুসন্তান শিশুদের ক্রীড়া বিকাশে আড়াইহাজারে গোল্ডকাপ ফুটবল ফাইনাল অনুষ্ঠিত উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে তিন কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার উজ্জলের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় খাল খননে স্বস্তি ফিরেছে ইসদাইরে, টানা বৃষ্টিতেও নেই জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ বালিয়াকান্দিতে নবযোগদানকৃত জেলা প্রশাসকের সাথে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : সেবাহীন হাসপাতাল নিয়ে জনঅসন্তোষ, ন্যায্য চিকিৎসার দাবিতে ক্ষোভ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৯৬ বার পড়া হয়েছে

ফরহাদ রহমান,কক্সবাজার: টেকনাফে স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব চিত্র ভয়াবহ উদ্বেগ তৈরি করেছে। “হাসপাতাল” নামের প্রতিষ্ঠানটি এখন মানুষের চোখে যেন কেবল রেফার সেন্টার—এমন অভিযোগই উঠে আসছে এলাকাবাসীর মুখে। রোগীরা বলছেন, চিকিৎসা নিতে গেলে তারা পাচ্ছেন না ন্যূনতম সেবা, বরং হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে রেফার স্লিপ।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে প্রতিদিনই ভিড়। কিন্তু রোগীরা অভিযোগ করছেন—গুরুতর অবস্থায় কেউ পৌঁছালেও চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত মনোযোগ নেই। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নেই, নেই আধুনিক সরঞ্জাম চালানোর মতো দক্ষ জনবল। অনেক সময় রোগীর অবস্থা বোঝার আগেই বলা হয়—“এটা এখানে সম্ভব নয়, কক্সবাজার রেফার।”

কিন্তু সেই রেফারের পথটাই যেন রোগীর জন্য আরেকটি পরীক্ষা। টেকনাফ থেকে কক্সবাজার পৌঁছাতে লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা, কখনো তিন ঘণ্টারও বেশি। সড়কের অবস্থা, যানজট, গাড়ি জোগাড়ের ঝক্কি—সব মিলিয়ে অনেক রোগী এই পথে জীবনযুদ্ধ হেরে যান।

এলাকাবাসীর ক্ষোভ—সরকারি ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত হাসপাতালে যদি ন্যূনতম চিকিৎসা-সক্ষমতা না থাকে, তাহলে এই হাসপাতালের অস্তিত্বের অর্থ কী? শুধু সাইনবোর্ডে ডাক্তারদের নাম থাকলেই কি দায়িত্ব শেষ? একজন নাগরিক কি শুধুই রেফার স্লিপ হয়ে থাকার জন্য চিকিৎসা নিতে আসে?

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, বারবার দাবি জানিয়েও বদলায়নি পরিস্থিতি। অভিযোগ—অধিকাংশ সময় দায়িত্বশীলদের উদাসীনতা, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা আর পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় হাসপাতালটি কার্যত “চিকিৎসাহীন কেন্দ্র”তে পরিণত হয়েছে।

এই অবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক নাগরিক বলেন,“আমরা দয়া চাই না—চাই অধিকার। টেকনাফের মানুষও বাংলাদেশি—আমাদের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার আছে।”

এলাকাবাসীর দাবি, টেকনাফের মতো সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আধুনিক চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। জরুরি বিভাগ শক্তিশালী করা, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগ, সেবার মান নিয়ন্ত্রণ ও সরঞ্জামের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

জনগণের জীবনের প্রশ্নে নীরবতা আর সমাধান নয়।
টেকনাফের বাসিন্দারা বলছেন—“চিকিৎসা কোনো দয়া নয়, এটা আমাদের অধিকার। এবং এই অধিকার আদায়ের লড়াই থেমে থাকবে না।”

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরের জনপ্রিয় ফুটবলার থেকে টিটন হয়ে উঠেন শীর্ষ সন্ত্রাসী বাড়িতে ফিরলো মরদেহ

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : সেবাহীন হাসপাতাল নিয়ে জনঅসন্তোষ, ন্যায্য চিকিৎসার দাবিতে ক্ষোভ

আপডেট সময় : ১১:১৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

ফরহাদ রহমান,কক্সবাজার: টেকনাফে স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব চিত্র ভয়াবহ উদ্বেগ তৈরি করেছে। “হাসপাতাল” নামের প্রতিষ্ঠানটি এখন মানুষের চোখে যেন কেবল রেফার সেন্টার—এমন অভিযোগই উঠে আসছে এলাকাবাসীর মুখে। রোগীরা বলছেন, চিকিৎসা নিতে গেলে তারা পাচ্ছেন না ন্যূনতম সেবা, বরং হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে রেফার স্লিপ।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে প্রতিদিনই ভিড়। কিন্তু রোগীরা অভিযোগ করছেন—গুরুতর অবস্থায় কেউ পৌঁছালেও চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত মনোযোগ নেই। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নেই, নেই আধুনিক সরঞ্জাম চালানোর মতো দক্ষ জনবল। অনেক সময় রোগীর অবস্থা বোঝার আগেই বলা হয়—“এটা এখানে সম্ভব নয়, কক্সবাজার রেফার।”

কিন্তু সেই রেফারের পথটাই যেন রোগীর জন্য আরেকটি পরীক্ষা। টেকনাফ থেকে কক্সবাজার পৌঁছাতে লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা, কখনো তিন ঘণ্টারও বেশি। সড়কের অবস্থা, যানজট, গাড়ি জোগাড়ের ঝক্কি—সব মিলিয়ে অনেক রোগী এই পথে জীবনযুদ্ধ হেরে যান।

এলাকাবাসীর ক্ষোভ—সরকারি ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত হাসপাতালে যদি ন্যূনতম চিকিৎসা-সক্ষমতা না থাকে, তাহলে এই হাসপাতালের অস্তিত্বের অর্থ কী? শুধু সাইনবোর্ডে ডাক্তারদের নাম থাকলেই কি দায়িত্ব শেষ? একজন নাগরিক কি শুধুই রেফার স্লিপ হয়ে থাকার জন্য চিকিৎসা নিতে আসে?

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, বারবার দাবি জানিয়েও বদলায়নি পরিস্থিতি। অভিযোগ—অধিকাংশ সময় দায়িত্বশীলদের উদাসীনতা, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা আর পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় হাসপাতালটি কার্যত “চিকিৎসাহীন কেন্দ্র”তে পরিণত হয়েছে।

এই অবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক নাগরিক বলেন,“আমরা দয়া চাই না—চাই অধিকার। টেকনাফের মানুষও বাংলাদেশি—আমাদের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার আছে।”

এলাকাবাসীর দাবি, টেকনাফের মতো সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আধুনিক চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। জরুরি বিভাগ শক্তিশালী করা, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগ, সেবার মান নিয়ন্ত্রণ ও সরঞ্জামের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

জনগণের জীবনের প্রশ্নে নীরবতা আর সমাধান নয়।
টেকনাফের বাসিন্দারা বলছেন—“চিকিৎসা কোনো দয়া নয়, এটা আমাদের অধিকার। এবং এই অধিকার আদায়ের লড়াই থেমে থাকবে না।”