ঢাকা ০৫:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরের জনপ্রিয় ফুটবলার থেকে টিটন হয়ে উঠেন শীর্ষ সন্ত্রাসী বাড়িতে ফিরলো মরদেহ পটিয়ায়   গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতি সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত  আলীকদমে অবৈধ ইটভাটায় সাঁড়াশি অভিযান: ৩ ভাটায় ৬ লক্ষ টাকা জরিমানা যশোরের টিটন ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী গুলিতে নিহত কক্সবাজারের ইনানীতে ৫০ কেজি গাঁজাসহ আটক ১ বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল বাবার, কোল থেকে ছিটকে প্রাণে বাঁচল শিশুসন্তান শিশুদের ক্রীড়া বিকাশে আড়াইহাজারে গোল্ডকাপ ফুটবল ফাইনাল অনুষ্ঠিত উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে তিন কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার উজ্জলের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় খাল খননে স্বস্তি ফিরেছে ইসদাইরে, টানা বৃষ্টিতেও নেই জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ বালিয়াকান্দিতে নবযোগদানকৃত জেলা প্রশাসকের সাথে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বঙ্গোপসাগরে অদূরে দুই ট্রলারসহ ১২ জেলে অপহরণ

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৬০ বার পড়া হয়েছে

ফরহাদ রহমান,কক্সবাজার: বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে সেন্টমার্টিনের ছেঁড়াদিয়ার পূর্ব সাগর এলাকায় দুইটি ট্রলারসহ ১২ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। বৃহস্পতিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় ট্রলারমালিক ও জেলেরা জানিয়েছেন।

ধরে নিয়ে যাওয়া ট্রলারগুলোর একটি সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদের। তিনি জানান, বুধবার রাতে কবির মাঝির নেতৃত্বে ছয় জেলেকে নিয়ে তার ট্রলারটি ছেঁড়াদিয়া এলাকায় মাছ ধরতে যায়। গভীর রাতে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রলারটি ভাসমান অবস্থায় থাকতেই ভোরের দিকে আরাকান আর্মির সশস্ত্র সদস্যরা নৌযানটি ঘিরে ধরে জেলেদের ধরে নিয়ে যায়।

অন্য ট্রলারটি স্থানীয় ইলিয়াস মাঝির মালিকানাধীন। তার ট্রলার থেকেও ছয়জনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। আকস্মিক এই ঘটনার পর উপকূলজুড়ে ট্রলারমালিক ও জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মিয়ানমারভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, গত ২৮ অক্টোবর থেকে আরাকান আর্মির উপকূলীয় ইউনিট সমুদ্র টহল জোরদার করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ১৮৮ বাংলাদেশি জেলে ও ৩০টি নৌকা আটক করে পরে ছেড়ে দিয়েছে গোষ্ঠীটি। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশি দুটি ট্রলারসহ ১২ জনকে আটকের বিষয়টিও তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেন্টমার্টিন ফিশিং ট্রলার সমবায় সমিতির সভাপতি আজিম উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন সময়ে গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে দেড় শতাধিক জেলে আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়েছেন। বেশ কয়েকজন এখনো ফিরে আসেননি। পরিবারগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, অপহৃত জেলেদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। উদ্ধার প্রচেষ্টা শুরু করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত দশ মাসে অন্তত ৩৭৮ জেলেকে অপহরণ করেছে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে প্রায় ২০০ জনকে ফেরত আনা হলেও এখনো ১৭৮ জন জেলে গোষ্ঠীটির হেফাজতে রয়েছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরের জনপ্রিয় ফুটবলার থেকে টিটন হয়ে উঠেন শীর্ষ সন্ত্রাসী বাড়িতে ফিরলো মরদেহ

বঙ্গোপসাগরে অদূরে দুই ট্রলারসহ ১২ জেলে অপহরণ

আপডেট সময় : ০৮:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

ফরহাদ রহমান,কক্সবাজার: বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে সেন্টমার্টিনের ছেঁড়াদিয়ার পূর্ব সাগর এলাকায় দুইটি ট্রলারসহ ১২ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। বৃহস্পতিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় ট্রলারমালিক ও জেলেরা জানিয়েছেন।

ধরে নিয়ে যাওয়া ট্রলারগুলোর একটি সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদের। তিনি জানান, বুধবার রাতে কবির মাঝির নেতৃত্বে ছয় জেলেকে নিয়ে তার ট্রলারটি ছেঁড়াদিয়া এলাকায় মাছ ধরতে যায়। গভীর রাতে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রলারটি ভাসমান অবস্থায় থাকতেই ভোরের দিকে আরাকান আর্মির সশস্ত্র সদস্যরা নৌযানটি ঘিরে ধরে জেলেদের ধরে নিয়ে যায়।

অন্য ট্রলারটি স্থানীয় ইলিয়াস মাঝির মালিকানাধীন। তার ট্রলার থেকেও ছয়জনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। আকস্মিক এই ঘটনার পর উপকূলজুড়ে ট্রলারমালিক ও জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মিয়ানমারভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, গত ২৮ অক্টোবর থেকে আরাকান আর্মির উপকূলীয় ইউনিট সমুদ্র টহল জোরদার করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ১৮৮ বাংলাদেশি জেলে ও ৩০টি নৌকা আটক করে পরে ছেড়ে দিয়েছে গোষ্ঠীটি। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশি দুটি ট্রলারসহ ১২ জনকে আটকের বিষয়টিও তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেন্টমার্টিন ফিশিং ট্রলার সমবায় সমিতির সভাপতি আজিম উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন সময়ে গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে দেড় শতাধিক জেলে আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়েছেন। বেশ কয়েকজন এখনো ফিরে আসেননি। পরিবারগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, অপহৃত জেলেদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। উদ্ধার প্রচেষ্টা শুরু করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত দশ মাসে অন্তত ৩৭৮ জেলেকে অপহরণ করেছে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে প্রায় ২০০ জনকে ফেরত আনা হলেও এখনো ১৭৮ জন জেলে গোষ্ঠীটির হেফাজতে রয়েছে।