মনির হোসেন, যশোর জেলা প্রতিনিধি: যশোর জেলার পশুহাটে ৩১টি সিসি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করতে হবে। সেই সাথে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিনের ব্যবস্থা ও চামড়া ছাড়ানো বিষয়ে কসাইদের প্রশিক্ষণ ও লবন দিয়ে চামড়া সংরক্ষণে প্রশিক্ষণ দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেলে কালেক্টরেট সভাকক্ষ অমিত্রাক্ষরে অনুষ্ঠিত আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন- ঈদুল আজহায় যশোরে যেখানে সেখানে পশুহাট বসানো যাবে না। বিশেষ করে অস্থায়ী হাটের ইজারা দেয়া হবে না। বিশেষ করে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের ধারে পশুহাট বসতে দেয়া হবে না। কোন প্রতিষ্ঠানের নামে হাটে টোল আদায় করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঈদুল আজহায় পশুর চামড়া ছাড়ানো ও যথাযথ সংরক্ষণের বিষয়ে প্রত্যেক উপজেলায় ইউএনওদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। পশু জবাইয়ের পর পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ বর্জ্য পরিস্কার করার দায়িত্বপালন করবে। প্রান্তিক পর্যায়ে মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মসজিদগুলোতে চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ছিনতাই ও জাল টাকার কারবার রোধে পুলিশ এবং বাজার কমিটিকে নিজস্ব ভলেন্টিয়ার নিয়োগের নির্দেশ দেয়া হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডিএসবি সাখাওয়াত হোসেন বলেন- সোনালী ব্যাংকের মোট ৫৮টি জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন আছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে জনগণের সুবিধার্থে ৩১টি পশুর হাটে এগুলো ব্যবহারে ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পশুর হাটে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও জাল টাকার কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসন কঠোর দায়িত্ব পালন করবে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে কেউ যদি কোন অস্থায়ী ব্যাংক বসান তাহলে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। হাটে নিরাপদে পশু বেচাকেনার স্বার্থে সিসি ক্যামেরা বসানোর জন্য ইজারাদারদের বাধ্যতামূলক করতে হবে। রাজারহাট চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মুমিনুল পলাশ বলেন-চামড়ার গুণগতমান ঠিক থাকলে প্রতি বর্গফুট চামড়ার সরকার নির্ধারিত মূল্য ৬২ টাকা। অনেক জায়গায় কসাই সঠিকভাবে চামড়া ছাড়াতে পারে না, এ কারণে দাম কমে যায়। আবার মাদ্রাসা, এতিমখানায় চামড়া সংগ্রহ করে পরিমাপ অনুযায়ী লবন দিয়ে সংরক্ষণ করতে না পারায় দাম কমে যায়। চামড়ার গুণগত মান ঠিকত রাখতে কসাইদের চামড়া ছাড়ানোর প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সেই সাথে মাদ্রাসা ও এতিম খানায় নির্দেশনা দিতে হবে সেখানে যেন পরিমাপ অনুযায়ী লবন দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করা হয়। চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য আলাউদ্দিন মুকুল বলেন- সঠিক ভাবে চামড়া সংরক্ষণ করতে রাজারহাটে টিন সেড ও শোচনাগার স্থাপন করা প্রয়োজন।
সভায় বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও পৌর প্রশাসক সৈয়দ রফিকল হাসান, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক এনাম আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, ৪৯ বিজিবির সহকারী পরিচালক সোহেল আল মাহমুদ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা আব্দুর রহমান প্রমুখ।
প্রতিনিধির নাম 


















