ঢাকা ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জেলা প্রশাসন আয়োজিত বৈশাখী অনুষ্ঠানে ঐক্য ও সহঅবস্থানে এগিয়ে যাবে নারায়ণগঞ্জ: ডিসি রায়হান কবির ​শার্শায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপিত সেন্টমার্টিনে বিদেশি মদ ও গাঁজাসহ আটক ১০ কৃষক কার্ড বিতরণ ও স্থলবন্দর পরিদর্শনে টেকনাফে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও সকল শ্রেণী পেশার মানুষের উপস্থিতিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ বরন শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ‎ রামগড়ে বর্ষবরণে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন যশোরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন শুরু কক্সবাজারে বিশেষ অভিযানে ১৩ জন গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জে নববর্ষে শুভেচ্ছা ও আধুনিক আবাসনের বার্তা দিল এন.আর.ডি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড

মতলবে শতবর্ষী মন্দিরে অবৈধ কারখানা উচ্ছেদের দাবি

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

​মতলব(চাঁদপুর) প্রতিনিধিঃ চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর বাজারের শতবর্ষী ‘শ্রী শ্রী কালাচাঁদ বিগ্রহ মন্দির’ প্রাঙ্গণে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চলা অবৈধ মিষ্টির কারখানা উচ্ছেদ এবং মন্দিরের ধর্মীয় পরিবেশ পুনরুদ্ধারের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মন্দিরের বর্তমান সভাপতি যুধিষ্ঠি বাড়ৈ স্বাক্ষরিত এই আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ১৭২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন মন্দিরের ভেতরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে, যা বর্তমানে মন্দির ও স্থানীয় ভক্তদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে মন্দিরের সহ-সভাপতি সুধির দেবনাথ বলেন​, মন্দিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুকোমল বাড়ৈ বিগত সরকারের আমলে নিয়মবহির্ভূতভাবে গোপাল দাস ও খগেন্দ্র চক্রবর্তীর মালিকানাধীন দুটি মিষ্টির কারখানা মন্দির চত্বরে স্থাপন করেন।এই কারখানাগুলোর মাধ্যমে মন্দিরের আয় থেকে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া কারখানার ধোঁয়া ও বর্জ্যের কারণে মন্দিরের পরিবেশ ও পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। কারখানা সচল রাখতে মন্দিরের গেট গভীর রাত পর্যন্ত খোলা রাখা হয়, যার সুযোগ নিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণ এখন মাদকসেবী ও অসামাজিক কার্যকলাপের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।

​মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক মনোরঞ্জন দেবনাথ বলেন, কারখানার শ্রমিক ও বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াতের ফলে মন্দিরের দানবাক্স ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটছে। এমনকি ‘মলম পার্টি’ বা ‘অজ্ঞান পার্টি’র খপ্পরে পড়ে অনেক নারী ভক্ত তাদের স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ হারিয়েছেন। জায়গার অভাবে ভক্তরা ঠিকমতো পূজা-অর্চনা করতে পারছেন না এবং শব্দ দূষণের ফলে শান্তিতে প্রার্থনা করাও দুরূহ হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মন্দিরের ঐতিহ্য ও পবিত্রতা রক্ষায় দ্রুত তদন্তপূর্বক অবৈধ কারখানা উচ্ছেদ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে মন্দিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুকোমল বাড়ৈ কে একাধিকবার ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মতলব উত্তর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন,মন্দিরের বর্তমান এবং সাবেক দুই কমিটিকে নিয়েই বসে ছিলাম। আদালতের কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকলে বর্তমান কার্যকরী কমিটি যদি চায় তারা উন্নয়নমূলক কাজ করবে,তাতে কেউ বাধা দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

জেলা প্রশাসন আয়োজিত বৈশাখী অনুষ্ঠানে ঐক্য ও সহঅবস্থানে এগিয়ে যাবে নারায়ণগঞ্জ: ডিসি রায়হান কবির

মতলবে শতবর্ষী মন্দিরে অবৈধ কারখানা উচ্ছেদের দাবি

আপডেট সময় : ০৬:৫৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

​মতলব(চাঁদপুর) প্রতিনিধিঃ চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর বাজারের শতবর্ষী ‘শ্রী শ্রী কালাচাঁদ বিগ্রহ মন্দির’ প্রাঙ্গণে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চলা অবৈধ মিষ্টির কারখানা উচ্ছেদ এবং মন্দিরের ধর্মীয় পরিবেশ পুনরুদ্ধারের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মন্দিরের বর্তমান সভাপতি যুধিষ্ঠি বাড়ৈ স্বাক্ষরিত এই আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ১৭২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন মন্দিরের ভেতরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে, যা বর্তমানে মন্দির ও স্থানীয় ভক্তদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে মন্দিরের সহ-সভাপতি সুধির দেবনাথ বলেন​, মন্দিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুকোমল বাড়ৈ বিগত সরকারের আমলে নিয়মবহির্ভূতভাবে গোপাল দাস ও খগেন্দ্র চক্রবর্তীর মালিকানাধীন দুটি মিষ্টির কারখানা মন্দির চত্বরে স্থাপন করেন।এই কারখানাগুলোর মাধ্যমে মন্দিরের আয় থেকে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া কারখানার ধোঁয়া ও বর্জ্যের কারণে মন্দিরের পরিবেশ ও পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। কারখানা সচল রাখতে মন্দিরের গেট গভীর রাত পর্যন্ত খোলা রাখা হয়, যার সুযোগ নিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণ এখন মাদকসেবী ও অসামাজিক কার্যকলাপের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।

​মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক মনোরঞ্জন দেবনাথ বলেন, কারখানার শ্রমিক ও বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াতের ফলে মন্দিরের দানবাক্স ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটছে। এমনকি ‘মলম পার্টি’ বা ‘অজ্ঞান পার্টি’র খপ্পরে পড়ে অনেক নারী ভক্ত তাদের স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ হারিয়েছেন। জায়গার অভাবে ভক্তরা ঠিকমতো পূজা-অর্চনা করতে পারছেন না এবং শব্দ দূষণের ফলে শান্তিতে প্রার্থনা করাও দুরূহ হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মন্দিরের ঐতিহ্য ও পবিত্রতা রক্ষায় দ্রুত তদন্তপূর্বক অবৈধ কারখানা উচ্ছেদ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে মন্দিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুকোমল বাড়ৈ কে একাধিকবার ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মতলব উত্তর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন,মন্দিরের বর্তমান এবং সাবেক দুই কমিটিকে নিয়েই বসে ছিলাম। আদালতের কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকলে বর্তমান কার্যকরী কমিটি যদি চায় তারা উন্নয়নমূলক কাজ করবে,তাতে কেউ বাধা দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।