ঢাকা ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তা অঞ্জনা খান মজলিশ: পারিবারিক রাজনীতির বলির পাঁঠা, তবুও নীতিতে দৃঢ় বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গতদের টেকসই পুনর্বাসনে বাড়ি বাড়ি জেলা প্রশাসক: দ্রুত নতুন ঘর নির্মাণের আশ্বাস ইনানীর জুম্মাপাড়া পাহাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, প্রধান অতিথি এমপি শাহজাহান চৌধুরী শার্শায় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য নাসির উদ্দীন গ্রেপ্তার শিশুকল্যাণ স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় আবুল কাউছার আশার দু’টি খাল খননের উদ্বৃত্ত ১৭ লাখ টাকা কোষাগারে জমা দিলেন ইউএনও পটিয়ায় মসজিদের জায়গার উপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা নারায়ণগঞ্জে বিভাগীয় কমিশনারের পরিদর্শনকালে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আরও দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছতার সাথে কাজ করা নির্দেশ প্রদান বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দিল মেয়ে নারায়ণগঞ্জে ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১০টি চেক বিতরণ

শীর্ষ সন্ত্রাসী চট্টগ্রামের ডেভিড ইমন ৩ সহযোগীসহ যশোরে গ্রেফতার

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

মনির হোসেন, যশোর প্রতিনিধি : শীর্ষ সন্ত্রাসী চট্টগ্রাম নগরের আলোচিত ডেভিড ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার ২৯জুলাই ভোর রাত ৩টার দিকে যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় চেক পোস্ট বসিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ বেলা পৌনে তিনটার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম।

পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, বুধবার ভোররাত তিনটার দিকে যশোর -নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ডিবি ও থানা পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে তিন সহযোগীসহ ডেভিট ইমনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, যশোর হয়ে তারা ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। আজ সকাল ১০টার দিকে তাদের চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরী এবং রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলায় বেশিরভাগ চাঁদা দাবি ও হামলার নেপথ্যে রয়েছেন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের অনুসারীরা। একসময় ছোট সাজ্জাদ বড় সাজ্জাদের হয়ে সব অপরাধ করে বেড়াতেন। ছোট সাজ্জাদ গ্রেফতারের পর মোবারক হোসেন ইমন এবং মোহাম্মদ রায়হান নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। এই দুজন একের পর এক অপরাধ করে বেড়ালেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে খুঁজে পাচ্ছিল না। অবশেষে তাকে গ্রেফতার করা হলো।

জানা গেছে, গত ১৩ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। লুট করা হয় প্রতিষ্ঠানটিতে বেতনের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা। ৩০ থেকে ৩৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি এ হামলা চালান। অথচ এর আগে গত শনিবার (১১ জুলাই) ডেভিড ইমন (মোবারক হোসেন ইমন) পরিচয়ে ২ কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে ডিডিএন মালিক আদিল বিন মামুনের মোবাইলে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করা হয়।

এতে ডেভিড ইমন বলেন, ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দেবেন। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দেবেন। না হলে এখন থেকে আমার ছেলেরা ব্যবসা করবে। আপনি আমার ডিটেইলস পুলিশ কমিশনার থেকে জিজ্ঞেস করেন। আপনি আমাকে না চিনলে পুলিশ কমিশনারকে আমার নম্বরটা দেখাইয়েন। ব্যবসা এখন থেকে আমরা করবো। আপনারা করিয়েন না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে স্মার্ট গ্রুপের মুজিবের ঘরে কী হয়েছিল ওটা দেখেছেন তো। মুজিব থেকে গিয়ে আমার কথা জিজ্ঞেস করেন। তাহলে বুঝবেন।’

এই হুমকির মাত্র দুই দিনের মধ্যে ডিডিএন অফিসে প্রকাশ্যে দিনদুপুরে সিনেমার স্টাইলে হামলা-ভাঙচুর ও লুট করা হয়। ব্যবসা বন্ধ রাখতে হুমকি দিয়ে গেছেন তারা। হামলার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

সবশেষ সোমবার যে প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে, তার পাশেই চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশের পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। অভিযোগ ছিল, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলা চালান। এর আগে গত ২ জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি করা হয়। তখন বাসার জানালার কাচ ও দরজায় গুলি লাগে। ওই ঘটনার পর থেকে বাসাটি পুলিশি পাহারায় ছিল। এরপরও আবার গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে চট্টগ্রামে বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ পলাতক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমনের দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। রোববার (২৬ জুলাই) রাতে নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন, মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফ (২৪)। এর মধ্যে আসিফ একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তা অঞ্জনা খান মজলিশ: পারিবারিক রাজনীতির বলির পাঁঠা, তবুও নীতিতে দৃঢ়

শীর্ষ সন্ত্রাসী চট্টগ্রামের ডেভিড ইমন ৩ সহযোগীসহ যশোরে গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

মনির হোসেন, যশোর প্রতিনিধি : শীর্ষ সন্ত্রাসী চট্টগ্রাম নগরের আলোচিত ডেভিড ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার ২৯জুলাই ভোর রাত ৩টার দিকে যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় চেক পোস্ট বসিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ বেলা পৌনে তিনটার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম।

পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, বুধবার ভোররাত তিনটার দিকে যশোর -নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ডিবি ও থানা পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে তিন সহযোগীসহ ডেভিট ইমনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, যশোর হয়ে তারা ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। আজ সকাল ১০টার দিকে তাদের চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরী এবং রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলায় বেশিরভাগ চাঁদা দাবি ও হামলার নেপথ্যে রয়েছেন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের অনুসারীরা। একসময় ছোট সাজ্জাদ বড় সাজ্জাদের হয়ে সব অপরাধ করে বেড়াতেন। ছোট সাজ্জাদ গ্রেফতারের পর মোবারক হোসেন ইমন এবং মোহাম্মদ রায়হান নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। এই দুজন একের পর এক অপরাধ করে বেড়ালেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে খুঁজে পাচ্ছিল না। অবশেষে তাকে গ্রেফতার করা হলো।

জানা গেছে, গত ১৩ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। লুট করা হয় প্রতিষ্ঠানটিতে বেতনের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা। ৩০ থেকে ৩৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি এ হামলা চালান। অথচ এর আগে গত শনিবার (১১ জুলাই) ডেভিড ইমন (মোবারক হোসেন ইমন) পরিচয়ে ২ কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে ডিডিএন মালিক আদিল বিন মামুনের মোবাইলে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করা হয়।

এতে ডেভিড ইমন বলেন, ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দেবেন। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দেবেন। না হলে এখন থেকে আমার ছেলেরা ব্যবসা করবে। আপনি আমার ডিটেইলস পুলিশ কমিশনার থেকে জিজ্ঞেস করেন। আপনি আমাকে না চিনলে পুলিশ কমিশনারকে আমার নম্বরটা দেখাইয়েন। ব্যবসা এখন থেকে আমরা করবো। আপনারা করিয়েন না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে স্মার্ট গ্রুপের মুজিবের ঘরে কী হয়েছিল ওটা দেখেছেন তো। মুজিব থেকে গিয়ে আমার কথা জিজ্ঞেস করেন। তাহলে বুঝবেন।’

এই হুমকির মাত্র দুই দিনের মধ্যে ডিডিএন অফিসে প্রকাশ্যে দিনদুপুরে সিনেমার স্টাইলে হামলা-ভাঙচুর ও লুট করা হয়। ব্যবসা বন্ধ রাখতে হুমকি দিয়ে গেছেন তারা। হামলার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

সবশেষ সোমবার যে প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে, তার পাশেই চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশের পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। অভিযোগ ছিল, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলা চালান। এর আগে গত ২ জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি করা হয়। তখন বাসার জানালার কাচ ও দরজায় গুলি লাগে। ওই ঘটনার পর থেকে বাসাটি পুলিশি পাহারায় ছিল। এরপরও আবার গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে চট্টগ্রামে বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ পলাতক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমনের দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। রোববার (২৬ জুলাই) রাতে নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন, মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফ (২৪)। এর মধ্যে আসিফ একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি।