পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী: মেধাবী শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও উৎসাহ প্রদান করা গেলে তারাই একদিন দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেবে। মেধাই হবে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি। এমন মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়ায় শাহ্ আমিরুজ্জমান (র.) স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘শাহ্ আমিরুজ্জমান (র.) স্মৃতি স্বর্ণপদক মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫’ এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পটিয়ার একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিশিষ্টজনদের প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে সাত শতাধিক কৃতি শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদক, ক্রেস্ট, সনদপত্র ও বিভিন্ন পুরস্কার প্রদান করা হয়।
শাহ্ আমিরুজ্জমান (র.) স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদারুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা শাহ্জাদা ছৈয়দ মোরশেদুজ্জামান আমিরী। প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর এ.বি.এম. আবু নোমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনামুল হক এনাম এমপি বলেন, একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে হবে। শাহ্ আমিরুজ্জমান (র.) স্মৃতি ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাবান্ধব কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে দক্ষিণ চট্টগ্রামে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তিনি আরও বলেন, মেধাবৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা, আত্মবিশ্বাস এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়। বর্তমান প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াচর্চার পাশাপাশি এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করতে হবে। মেধাবীদের পাশে দাঁড়ানো মানেই দেশের ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করা।
প্রধান বক্তা প্রফেসর এ.বি.এম. আবু নোমান বলেন, শিক্ষা শুধু ভালো ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, শিক্ষা মানুষকে নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ শেখায়। একটি আলোকিত সমাজ গঠনে মেধার পাশাপাশি চরিত্র গঠনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি প্রযুক্তি, গবেষণা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্টানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক প্রফেসর মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন, পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম সওদাগর, পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, পটিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী আবু তাহের, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহাবুবুল আলম, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ বেলাল হোসেন, পটিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মঈনুল আলম ছোটন, পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক এবং কনফিডেন্স কোচিংয়ের নির্বাহী পরিচালক কাজী সোহেল।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
পরে মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সাত শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে স্বর্ণপদক, ক্রেস্ট, সনদপত্র ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল। অনুষ্ঠানে শাহ্ আমিরুজ্জমান (র.) স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা, শুভানুধ্যায়ী, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধির নাম 


















