ঢাকা ১০:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পটিয়ায় গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত আলীকদমে অবৈধ ইটভাটায় সাঁড়াশি অভিযান: ৩ ভাটায় ৬ লক্ষ টাকা জরিমানা যশোরের টিটন ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী গুলিতে নিহত কক্সবাজারের ইনানীতে ৫০ কেজি গাঁজাসহ আটক ১ বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল বাবার, কোল থেকে ছিটকে প্রাণে বাঁচল শিশুসন্তান শিশুদের ক্রীড়া বিকাশে আড়াইহাজারে গোল্ডকাপ ফুটবল ফাইনাল অনুষ্ঠিত উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে তিন কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার উজ্জলের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় খাল খননে স্বস্তি ফিরেছে ইসদাইরে, টানা বৃষ্টিতেও নেই জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ বালিয়াকান্দিতে নবযোগদানকৃত জেলা প্রশাসকের সাথে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বেনাপোলে ইউনুস আলী হত্যা রহস্য উদঘাটন, পিবিআই’র জালে দুইজন আটক

উখিয়ায় আবারও বিদ্যুৎ ফাঁদে বন্য হাতির মৃত্যু: দায় এড়াচ্ছে কর্তৃপক্ষ, উৎকণ্ঠায় স্থানীয়রা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ১২৭ বার পড়া হয়েছে

ফরহাদ রহমান,কক্সবাজার : কক্সবাজার উখিয়ার পাহাড়ি জনপদে আবারও প্রাণ হারিয়েছে একটি পূর্ণবয়স্ক বন্য হাতি। পশ্চিম খয়রাতি রহমানিয়া পাড়ার বিলের ভেতরে বৈদ্যুতিক ফাঁদে আটকে হাতিটির মৃত্যু স্থানীয় মানুষকে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভেও ভরিয়ে তুলেছে। গত এক বছরে এ নিয়ে তৃতীয় বন্য হাতির মৃত্যু, তবু বনবিভাগ কিংবা পল্লীবিদ্যুত—কোনো সংস্থাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে মন্তব্য সচেতন মহলের।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার দিবাগত রাতে। ভোরে গ্রামবাসী প্রথম হাতিটির নিথর দেহ দেখতে পান এবং বনবিভাগকে খবর দেন। তথ্য পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান এবং দুছড়ি বিট কর্মকর্তা এমদাদুল হক রনি। তাঁরা প্রাথমিক তদন্ত শেষে নিশ্চিত করেন—হাতিটির মৃত্যু হয়েছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে ছড়ানো কারেন্টে।

স্থানীয়দের ভাষায়, পাহাড়ি পথ দখল এবং খাদ্যের অভাব হাতিদের বারবার লোকালয়ে নামিয়ে আনছে। কৃষকরা ফসলরক্ষায় বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার শুরু করায় এই মৃত্যু ফাঁদ এখন যেকোনো প্রাণীর জন্যই ভয়াবহ হুমকি। পরিবেশবিদরা জানান, এমন ফাঁদ শুধু অবৈধ নয়, এটি একটি অঞ্চলের পুরো জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পথ তৈরি করে।

পল্লীবিদ্যুতের স্থানীয় ডিজিএম জানান, ঘটনাটি তিনি জেনেছেন এবং সরেজমিনে গিয়ে ব্যাপারটি যাচাই করবেন। অবৈধ সংযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মিটার বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।

বাপা উখিয়া শাখার সভাপতি আয়াজ রবি অভিযোগ করে বলেন, “বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়মিত অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পরও নতুন করে হাতি মৃত্যুর ঘটনা প্রমাণ করে, বনবিভাগ ও পল্লীবিদ্যুতের দায়িত্বহীনতা কতটা চরম। অবৈধ সংযোগ, নজরদারির অভাব—সব মিলিয়ে হাতিগুলো যেন অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।”

স্থানীয় মানুষের প্রশ্ন এখন একটাই আর কত হাতি মরলে নড়বে সংশ্লিষ্ট দপ্তর?
উখিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ কি এভাবেই নিঃশেষ হয়ে যাবে?

এই নীরব মৃত্যুর ধারাবাহিকতা থামাতে কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পটিয়ায় গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত

উখিয়ায় আবারও বিদ্যুৎ ফাঁদে বন্য হাতির মৃত্যু: দায় এড়াচ্ছে কর্তৃপক্ষ, উৎকণ্ঠায় স্থানীয়রা

আপডেট সময় : ০৪:২৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

ফরহাদ রহমান,কক্সবাজার : কক্সবাজার উখিয়ার পাহাড়ি জনপদে আবারও প্রাণ হারিয়েছে একটি পূর্ণবয়স্ক বন্য হাতি। পশ্চিম খয়রাতি রহমানিয়া পাড়ার বিলের ভেতরে বৈদ্যুতিক ফাঁদে আটকে হাতিটির মৃত্যু স্থানীয় মানুষকে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভেও ভরিয়ে তুলেছে। গত এক বছরে এ নিয়ে তৃতীয় বন্য হাতির মৃত্যু, তবু বনবিভাগ কিংবা পল্লীবিদ্যুত—কোনো সংস্থাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে মন্তব্য সচেতন মহলের।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার দিবাগত রাতে। ভোরে গ্রামবাসী প্রথম হাতিটির নিথর দেহ দেখতে পান এবং বনবিভাগকে খবর দেন। তথ্য পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান এবং দুছড়ি বিট কর্মকর্তা এমদাদুল হক রনি। তাঁরা প্রাথমিক তদন্ত শেষে নিশ্চিত করেন—হাতিটির মৃত্যু হয়েছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে ছড়ানো কারেন্টে।

স্থানীয়দের ভাষায়, পাহাড়ি পথ দখল এবং খাদ্যের অভাব হাতিদের বারবার লোকালয়ে নামিয়ে আনছে। কৃষকরা ফসলরক্ষায় বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার শুরু করায় এই মৃত্যু ফাঁদ এখন যেকোনো প্রাণীর জন্যই ভয়াবহ হুমকি। পরিবেশবিদরা জানান, এমন ফাঁদ শুধু অবৈধ নয়, এটি একটি অঞ্চলের পুরো জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পথ তৈরি করে।

পল্লীবিদ্যুতের স্থানীয় ডিজিএম জানান, ঘটনাটি তিনি জেনেছেন এবং সরেজমিনে গিয়ে ব্যাপারটি যাচাই করবেন। অবৈধ সংযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মিটার বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।

বাপা উখিয়া শাখার সভাপতি আয়াজ রবি অভিযোগ করে বলেন, “বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়মিত অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পরও নতুন করে হাতি মৃত্যুর ঘটনা প্রমাণ করে, বনবিভাগ ও পল্লীবিদ্যুতের দায়িত্বহীনতা কতটা চরম। অবৈধ সংযোগ, নজরদারির অভাব—সব মিলিয়ে হাতিগুলো যেন অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।”

স্থানীয় মানুষের প্রশ্ন এখন একটাই আর কত হাতি মরলে নড়বে সংশ্লিষ্ট দপ্তর?
উখিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ কি এভাবেই নিঃশেষ হয়ে যাবে?

এই নীরব মৃত্যুর ধারাবাহিকতা থামাতে কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।