ফরহাদ রহমান,কক্সবাজার: কক্সবাজার সীমান্তে মাদক ঠেকাতে সদা সতর্ক রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) আবারও সফল অভিযান চালিয়েছে। রামু রিজিয়ন, রামু সেক্টরের অধীনস্থ এই ব্যাটালিয়ন সীমান্ত সুরক্ষা থেকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমন—সবক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২৪ নভেম্বর মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে হাতেনাতে ধরা পড়ল অভিনব ছদ্মবেশে মাদক পাচারের চেষ্টা।
সোমবার ২৪ নভেম্বর দুপুর ১১টা ৩০ মিনিটে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর লে. কর্নেল কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদের দিকনির্দেশনায় এবং সহকারী পরিচালক মোঃ কবির হোসেনের নেতৃত্বে চেকপোস্টে টহল ও তল্লাশি জোরদার করা হয়। ওই সময় একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে তল্লাশি শুরু করলে যাত্রী মোঃ সাফায়েত উল্লাহ (২৭), পিতা মৃত আব্দুর রহমান, গ্রাম কালিয়াটি, মদন, নেত্রকোণা—নিজেকে নৌবাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতে থাকে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে দাবি করে তার ব্যাগে শুধু ব্যক্তিগত ব্যবহারের টি-শার্ট ও ট্রাউজার আছে। কিন্তু ব্যাগ খোলার পর মিলল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। নৌবাহিনীর লোগোযুক্ত ৪টি টি-শার্ট, ১ সেট ট্রাকস্যুট, ট্রাউজার, ক্যাপ, ৪টি মাস্ক, মানিব্যাগ/পাউচ, ৩টি ইনসিগনিয়া এবং একটি আইডি কার্ড কভারসহ বিভিন্ন সামগ্রীর ভেতরে বিশেষভাবে লুকানো ছিল ৪০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা—যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা।
নিজেকে নৌবাহিনীর সদস্য দাবি করলেও সে কোনো বৈধ পরিচয়পত্র বা প্রমাণ দেখাতে পারেনি। তদন্তে স্পষ্ট হয়, ছদ্মবেশ ও নকল সামগ্রী ব্যবহার করে মরিচ্যা চেকপোস্ট পার হওয়ারই ছিল তার মূল কৌশল।
বিজিবির এই দ্রুত ও দক্ষ অভিযান আবারও প্রমাণ করল—সীমান্তে অবৈধ কার্যক্রম রোধে তারা নির্ভুল সতর্কতায় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তার এই বাস্তব চিত্র ভবিষ্যতে আরো কঠিন মাদকচক্র উন্মোচনের ইঙ্গিত বহন করে।
প্রতিনিধির নাম 



















