ঢাকা ০৫:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরের জনপ্রিয় ফুটবলার থেকে টিটন হয়ে উঠেন শীর্ষ সন্ত্রাসী বাড়িতে ফিরলো মরদেহ পটিয়ায়   গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতি সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত  আলীকদমে অবৈধ ইটভাটায় সাঁড়াশি অভিযান: ৩ ভাটায় ৬ লক্ষ টাকা জরিমানা যশোরের টিটন ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী গুলিতে নিহত কক্সবাজারের ইনানীতে ৫০ কেজি গাঁজাসহ আটক ১ বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল বাবার, কোল থেকে ছিটকে প্রাণে বাঁচল শিশুসন্তান শিশুদের ক্রীড়া বিকাশে আড়াইহাজারে গোল্ডকাপ ফুটবল ফাইনাল অনুষ্ঠিত উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে তিন কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার উজ্জলের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় খাল খননে স্বস্তি ফিরেছে ইসদাইরে, টানা বৃষ্টিতেও নেই জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ বালিয়াকান্দিতে নবযোগদানকৃত জেলা প্রশাসকের সাথে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কক্সবাজারে র‌্যাব–১৫-তে অধিনায়কসহ তিন শতাধিক সদস্য একযোগে বদলি

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৫৫ বার পড়া হয়েছে

ফরহাদ রহমান,কক্সবাজার: কক্সবাজার–বান্দরবান উপকূল জুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানের জন্য আলোচিত র‌্যাব–১৫ এবার অন্য কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ইউনিটটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানসহ তিন শতাধিক সদস্যকে একযোগে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে র‌্যাব সদর দপ্তর। সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে তথ্য বিভ্রাট, ইয়াবা উদ্ধারে অনিয়ম ও আচরণগত অসঙ্গতির তদন্তের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে র‌্যাবের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

র‌্যাব মিডিয়া উইং অবশ্য পুরো ঘটনাটিকে নিয়মিত বদলি প্রক্রিয়া বলে ব্যাখ্যা করছে।

সদর দপ্তর থেকে পাওয়া তিনটি প্রজ্ঞাপন বলছে, ১৯ নভেম্বর দুই দফায় ৩৯৮ জন ও ২৭ নভেম্বর তৃতীয় দফায় আরও ৭৪ জন সদস্যকে বদলি করা হয়। বিশ্লেষণে দেখা যায়—এই বিপুল সংখ্যক সদস্যের মূল অংশই ছিল র‌্যাব–১৫-তে। একই ইউনিট থেকে এত বড় আকারের স্থানান্তর দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ইতিহাসে খুব কমই দেখা গেছে।

এক বছর দায়িত্ব পালনের পর লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানকে সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তার স্থানে আসছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নেয়ামুল হালিম খান পিএসসি—করোনাকালে যশোর সেনানিবাসের ৩৭ বীরের দায়িত্বে থাকা একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বদলি তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ। তবে অনিয়মের অভিযোগ পেলে সেটি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হয়।

অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি—সেপ্টেম্বরের দুটি অভিযানে বেশ কিছু অসঙ্গতি সদর দপ্তরকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করে। ৭ সেপ্টেম্বর কুতুপালংয়ে দুই নারীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ইয়াবার প্রকৃত পরিমাণ গোপন ও মামলায় ভুল তথ্য সাজানোর অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সাংবাদিক সেলিম উদ্দিনও তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন। ঘটনাটি তদন্তে একটি দল সেখানে যায়।

২৬ সেপ্টেম্বর টেকনাফের লেদা এলাকায় আরও একটি অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ—শীর্ষ মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে “জব্দ” দেখানো হয় কেবল কিছু ইটের টুকরা আর কাঠের লাঠি। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে তীব্র সমালোচনা তোলে। এসব অভিযানে নেতৃত্বে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান। তার ঘনিষ্ঠ কর্পোরাল ইমামকেও তদন্তসংশ্লিষ্টরা বিতর্কের কেন্দ্রে দেখছেন।

র‌্যাব জানাচ্ছে—অনিয়ম, আত্মসাৎ বা তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট যে কাউকেই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তদন্ত এখনো চলমান।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরের জনপ্রিয় ফুটবলার থেকে টিটন হয়ে উঠেন শীর্ষ সন্ত্রাসী বাড়িতে ফিরলো মরদেহ

কক্সবাজারে র‌্যাব–১৫-তে অধিনায়কসহ তিন শতাধিক সদস্য একযোগে বদলি

আপডেট সময় : ০৬:০০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

ফরহাদ রহমান,কক্সবাজার: কক্সবাজার–বান্দরবান উপকূল জুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানের জন্য আলোচিত র‌্যাব–১৫ এবার অন্য কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ইউনিটটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানসহ তিন শতাধিক সদস্যকে একযোগে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে র‌্যাব সদর দপ্তর। সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে তথ্য বিভ্রাট, ইয়াবা উদ্ধারে অনিয়ম ও আচরণগত অসঙ্গতির তদন্তের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে র‌্যাবের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

র‌্যাব মিডিয়া উইং অবশ্য পুরো ঘটনাটিকে নিয়মিত বদলি প্রক্রিয়া বলে ব্যাখ্যা করছে।

সদর দপ্তর থেকে পাওয়া তিনটি প্রজ্ঞাপন বলছে, ১৯ নভেম্বর দুই দফায় ৩৯৮ জন ও ২৭ নভেম্বর তৃতীয় দফায় আরও ৭৪ জন সদস্যকে বদলি করা হয়। বিশ্লেষণে দেখা যায়—এই বিপুল সংখ্যক সদস্যের মূল অংশই ছিল র‌্যাব–১৫-তে। একই ইউনিট থেকে এত বড় আকারের স্থানান্তর দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ইতিহাসে খুব কমই দেখা গেছে।

এক বছর দায়িত্ব পালনের পর লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানকে সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তার স্থানে আসছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নেয়ামুল হালিম খান পিএসসি—করোনাকালে যশোর সেনানিবাসের ৩৭ বীরের দায়িত্বে থাকা একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বদলি তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ। তবে অনিয়মের অভিযোগ পেলে সেটি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হয়।

অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি—সেপ্টেম্বরের দুটি অভিযানে বেশ কিছু অসঙ্গতি সদর দপ্তরকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করে। ৭ সেপ্টেম্বর কুতুপালংয়ে দুই নারীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ইয়াবার প্রকৃত পরিমাণ গোপন ও মামলায় ভুল তথ্য সাজানোর অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সাংবাদিক সেলিম উদ্দিনও তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন। ঘটনাটি তদন্তে একটি দল সেখানে যায়।

২৬ সেপ্টেম্বর টেকনাফের লেদা এলাকায় আরও একটি অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ—শীর্ষ মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে “জব্দ” দেখানো হয় কেবল কিছু ইটের টুকরা আর কাঠের লাঠি। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে তীব্র সমালোচনা তোলে। এসব অভিযানে নেতৃত্বে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান। তার ঘনিষ্ঠ কর্পোরাল ইমামকেও তদন্তসংশ্লিষ্টরা বিতর্কের কেন্দ্রে দেখছেন।

র‌্যাব জানাচ্ছে—অনিয়ম, আত্মসাৎ বা তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট যে কাউকেই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তদন্ত এখনো চলমান।