মনির হোসেন, যশোর জেলাপ্রতিনিধি:-যশোরে যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা আলোচিত মাজহারুল ইসলাম খোকাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সদর আমলী আদালতে মামলা করেছেন মো. সেলিম রেজা নামে এক যুবক। মারপিট, টাকা ছিনতাই ও জোর করে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কোতোয়ালি থানা পুলিশের ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।মামলার আসামিরা হলেন—সদর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে মাজহারুল ইসলাম খোকা, বাহাদুরপুর পশ্চিমপাড়ার আব্দুর রহিম ও তার মেয়ে আকলিমা বেগম সীমা, বাহাদুরপুর গ্রামের রোকন এবং পাঁচবাড়িয়া গ্রামের ইনতাজ আলীর ছেলে তাজউদ্দীন আহমেদ মুক্তি। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের সামসুল হকের ছেলে সেলিম রেজা ঢাকার পুরনো পল্টনে ‘তসলিম এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন। এই সুবাদে আকলিমা বেগম সীমা তার কাছে দুবাই যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে তার বাবা আব্দুর রহিমও মেয়েকে বিদেশ পাঠানোর জন্য সেলিম রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এক লাখ ৮০ হাজার টাকায় চুক্তি হয় এবং ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিমানবন্দরে ওঠার আগে টাকা পরিশোধের কথা ছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৩ এপ্রিল সৌদি এয়ারওয়েজের টিকিট সংগ্রহের জন্য আকলিমার পাসপোর্ট ইমিগ্রেশনে জমা দিলে যাচাইয়ে বেরিয়ে আসে, তার প্রকৃত ঠিকানা বরিশাল এবং তিনি একটি হত্যামামলার আসামি। এ কারণে পুলিশ পাসপোর্ট জব্দ করে এবং তাকে আটকের চেষ্টা চালায়। বিষয়টি জানিয়ে সেলিম রেজা তার পাওনা টাকা চাইলে আকলিমা তা পরিশোধ না করে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ মে সন্ধ্যা ৬টার দিকে এনায়েতপুর গ্রামের মান্নানের সামনে টাকা নেওয়ার কথা বলে সেলিম রেজাকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানো মাত্রই রোকন, তাজউদ্দীন আহমেদ মুক্তি মাজহারুল ইসলাম খোকা তাকে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় আকলিমা বেগম সীমা ও আব্দুর রহিমও তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে আকলিমা সেলিম রেজার কাছে থাকা এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন।খবর পেয়ে সেলিম রেজার বাবা সামসুল হক ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করতে গেলে তাকেও হুমকি দেওয়া হয়। পরে আসামিরা সেলিম রেজাকে জোরপূর্বক পাঁচবাড়িয়া স্কুলমাঠে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে একশ টাকার ফাঁকা নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। রাত ১২টার দিকে স্থানীয়রা সেলিম রেজাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। দীর্ঘদিন আসামিপক্ষের হুমকি-ধামকির কারণে মামলা করতে সাহস না পেলেও বর্তমানে পরিস্থিতি অনুকূলে আসায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এর আগে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষকের কাছ থেকে কমিটি অনুমোদন না পাওয়ায় মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে মাজহারুল ইসলাম খোকার বিরুদ্ধে। ওই অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।#
প্রতিনিধির নাম 



















