আলোকিত কাগজ প্রতিবেদক: সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক বিক্রিতে বাধা দিয়ে মাদক কারবারিদের ষড়যন্ত্রে বিপাকে পড়েছেন রেহেনা বেগম (৪৮) নামে এক নারী। ওই নারীর অভিযোগ চিহ্নিত মাদক কারবারিরা তার পরিবারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় তাদের সিন্ডিকেটের লোকজন দিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন ও ষড়যন্ত্র করে বেড়াচ্ছেন। এমনকি মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
এ ঘটনায় ভূক্তভোগি রেহেনা বেগম বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন- মো. ফাহিম (৩০), সুমাইয়া (২২), জুয়েল (৩৭), শুক্কুর আলী (৫৮) ও ইভা (৩০)।
রেহেনা বেগম জানান, এরা পরষ্পর একে অপরের আত্মীয় স্বজন। নিমাইকাশারী এলাকায় মাদক বেচাকেনা, ছিনতাই, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। অপরাধ কর্মকান্ডের কারণে এরা এলাকায় চিহ্নিত হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি অভিযুক্তদের নানা ষড়যন্ত্রে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। যে কোনো সময় নাশকতা ও হামলার শিকার হতে পারেন বলে আশংকা করছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আইনশৃংখলাবাহিনী উর্ধ্বতণ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, অভিযুক্তরা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার নাসিক ৩ নং ওয়ার্ডের নিমাইকাশারী এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি, ছিনতাইকারি ও চাঁদাবাজ। তাদের অপরাধ কর্মকান্ডে বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তার ওপর ক্ষীপ্ত ও বেপরোয়া হয়ে তাকে নানা প্রকার হয়রানি করে থাকে। এমনকি এলাকা ছাড়তেও বাধ্য করে। তাদের এসব অনৈতিক অপরাধ কর্মকান্ডের বিষয়ে একাধিকবার এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা বিচার শালিসি করার পরও তাদেও কোনো পরিবর্তন হয়নি।
গত ৯ মার্চ ওই চক্রের একজন জুয়েলের ছেলে জুবায়ের ঠিল মেরে রেহানার ভাগ্নি শেমুলি (৩৫) এর ডান চোখে আঘাত করে। এতে চোখ থেকে রক্তপাত হয়। বিষয়টি তাদের জানাতে গেলে উল্টো ক্ষীপ্ত ও বেপরোয়া হয়ে শেমুলিকে অকথ্য ভাষায় গাল মন্দ করে মারতে আসে। শেমুলির ডাকচিৎকার শুনে রেহেনা এগিয়ে গেলে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়া তাদের উপর মারমুখি আচরন করলে লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা উভয়পক্ষের সাথে সামাজিকভাবে বসে শালিসি বৈঠকের মধ্যে সুরাহা করতে চাইলে অভিযুক্তরা এ বৈঠকে আসে নাই। উল্টো আরও ক্ষীপ্ত ও বেপরোয়া হইয়া উঠে।
সর্বশেষ গত ৫ মে অভিযুক্তরা তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক হইতে ভুক্তভোগী রেহেনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে মিথ্যা ও অসামাজিক অপপ্রচার চালিয়ে আসছে বিষয়টি তাদের নজরে আসে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত ইভার স্বামী ১বছর পূর্বে ছিনতাই করতে গিয়ে অপমৃত্যুর শিকার হয়। অভিযুক্তরা ওই মৃত্যুর ঘটনায় ভুক্তভোগী রেহেনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রঞ্জন জানান, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। অভিযুক্তদের পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রতিনিধির নাম 



















