ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরুড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পাঁচ বছর খেদমত করলেই মাদরাসার খরচে উমরাহ, প্রতিশ্রুতি পূরণে গেলেন পাঁচ উস্তাদ নরসিংদীর আইয়ূব পুর ইউনিয়ন পরিষদে মসজিদ উদ্বোধন করেন নির্বাহী অফিসার মোছাঃ ফারজানা ইয়াসমিন টেকনাফে চেকপোস্টে নোহা থামিয়ে অস্ত্রসহ ৪ জন গ্রেপ্তার মালিক হঠাও, বাগান বাঁচাও’ স্লোগানে উত্তাল চার চা বাগান, মজুরির দাবিতে কর্মবিরতি যশোরে জমি নিয়ে বিরোধে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ যশোর অভয়নগরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উখিয়ায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জে চুরি করতে গিয়ে মাধবপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৪ নারী আটক যশোরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত সংখ্যা বাড়ছে

যশোর পৌরসভা রেকর্ড বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা চরম ভোগান্তিতে শহরবাসী

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৭:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • ৮৬ বার পড়া হয়েছে

মনির হোসেন, যশোর প্রতিনিধি :-
যশোর পৌরসভা টানা দশ ঘণ্টায় রেকর্ড ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে নিম্নাঞ্চলে তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে যশোর শহর, শহরতলীসহ গোটা জেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। নিচু এলাকার ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। শহরের অধিকাংশ এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত দশ ঘণ্টায় মোট ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু রাত দুইটা থেকে শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ১১০ মিলিমিটার এবং ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টাতেই ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। টানা এই ভারী বর্ষণের ফলেই দ্রুত তলিয়ে যায় শহরের নিচু এলাকাগুলো।যশোর শহর ঘুরে দেখা গেছে, শহরের প্রধান প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার রাস্তাগুলো এখন পানির নিচে। শহরের টিবি ক্লিনিক এলাকা, খড়কি এলাকার শাহ আবদুল করিম সড়ক, ধর্মতলা রোড, আপন মোড়, চারখাম্বার মোড় মোড়, মুজিব সড়কের রেলগেট এলাকা, নাজির শংকরপুর, খড়কি রূপকথা মোড়, বেজপাড়া চিরুনিকল মোড়, মিশনপাড়া, আরবপুর, বিমানবন্দর সড়ক, শংকরপুর এছাড়াও পুকুর, মাঠ-ঘাট ও পতিত জমি পানিতে ডুবে গেছে। আবার কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানিতে মানুষকে মাছ ধরতেও দেখা গেছে।শহরের টিবি ক্লিনিক এলাকার মনিরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটা যেন আমাদের নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই আমাদের আশ্বাস দেন আগামীতে এ সমস্যা আর থাকবে না। কিন্তু তাদের দেওয়া কথা তারা রাখেন না।”শহরের স্টেডিয়াম পাড়া এলাকার আব্দুল মজিদ বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই স্টেডিয়ামের মেইন গেটের সামনে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। তবে আজকে আপন মোড় থেকে শুরু করে পৌর হকার্স মার্কেট পর্যন্ত পানিতে একাকার হয়ে গেছে।”স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং সরেজমিনে দেখা গেছে, কেবল বৃষ্টি নয়, এই জলাবদ্ধতার পেছনে মূল কারণ শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা। শহরের বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য সরাসরি ড্রেনে ফেলার কারণে ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় ড্রেনের নিচে নদীর মতো পলি জমে আছে। আবর্জনার স্তূপের কারণে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিক গতিতে নামতে পারছে না। কোথাও অর্ধেক, আবার কোথাও সম্পূর্ণ ড্রেন ময়লা ও পানিতে ঠাসা। শহরের বেশ কিছু এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা একেবারেই অপরিকল্পিত।সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, কেবল বৃষ্টি নয়, এই জলাবদ্ধতার পেছনে মূল কারণ শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা। শহরের বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য সরাসরি ড্রেনে ফেলার কারণে ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় ড্রেনের নিচে নদীর মতো পলি জমে আছে। আবর্জনার স্তূপের কারণে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিক গতিতে নামতে পারছে না। কোথাও অর্ধেক, আবার কোথাও সম্পূর্ণ ড্রেন ময়লা ও পানিতে ঠাসা। জীবনযাত্রা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না।এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বিএম কামাল আহম্মেদ বলেন, পৌরসভা থেকে প্লাবিত এলাকাগুলো পৌর প্রশাসকের নেতৃত্বে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি দ্রুতই পানি নেমে যাবে। মেডিকেল কলেজের পাশে একটি সরু ড্রেন রয়েছে। কিন্তু সেটাকে সম্প্রসারিত করতে দেয়নি এলাকাবাসী। ওই ড্রেনটা সম্প্রসার করা হলে এ সমস্যা আর থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।#

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বরুড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

যশোর পৌরসভা রেকর্ড বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা চরম ভোগান্তিতে শহরবাসী

আপডেট সময় : ০২:০৭:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

মনির হোসেন, যশোর প্রতিনিধি :-
যশোর পৌরসভা টানা দশ ঘণ্টায় রেকর্ড ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে নিম্নাঞ্চলে তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে যশোর শহর, শহরতলীসহ গোটা জেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। নিচু এলাকার ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। শহরের অধিকাংশ এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত দশ ঘণ্টায় মোট ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু রাত দুইটা থেকে শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ১১০ মিলিমিটার এবং ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টাতেই ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। টানা এই ভারী বর্ষণের ফলেই দ্রুত তলিয়ে যায় শহরের নিচু এলাকাগুলো।যশোর শহর ঘুরে দেখা গেছে, শহরের প্রধান প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার রাস্তাগুলো এখন পানির নিচে। শহরের টিবি ক্লিনিক এলাকা, খড়কি এলাকার শাহ আবদুল করিম সড়ক, ধর্মতলা রোড, আপন মোড়, চারখাম্বার মোড় মোড়, মুজিব সড়কের রেলগেট এলাকা, নাজির শংকরপুর, খড়কি রূপকথা মোড়, বেজপাড়া চিরুনিকল মোড়, মিশনপাড়া, আরবপুর, বিমানবন্দর সড়ক, শংকরপুর এছাড়াও পুকুর, মাঠ-ঘাট ও পতিত জমি পানিতে ডুবে গেছে। আবার কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানিতে মানুষকে মাছ ধরতেও দেখা গেছে।শহরের টিবি ক্লিনিক এলাকার মনিরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটা যেন আমাদের নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই আমাদের আশ্বাস দেন আগামীতে এ সমস্যা আর থাকবে না। কিন্তু তাদের দেওয়া কথা তারা রাখেন না।”শহরের স্টেডিয়াম পাড়া এলাকার আব্দুল মজিদ বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই স্টেডিয়ামের মেইন গেটের সামনে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। তবে আজকে আপন মোড় থেকে শুরু করে পৌর হকার্স মার্কেট পর্যন্ত পানিতে একাকার হয়ে গেছে।”স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং সরেজমিনে দেখা গেছে, কেবল বৃষ্টি নয়, এই জলাবদ্ধতার পেছনে মূল কারণ শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা। শহরের বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য সরাসরি ড্রেনে ফেলার কারণে ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় ড্রেনের নিচে নদীর মতো পলি জমে আছে। আবর্জনার স্তূপের কারণে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিক গতিতে নামতে পারছে না। কোথাও অর্ধেক, আবার কোথাও সম্পূর্ণ ড্রেন ময়লা ও পানিতে ঠাসা। শহরের বেশ কিছু এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা একেবারেই অপরিকল্পিত।সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, কেবল বৃষ্টি নয়, এই জলাবদ্ধতার পেছনে মূল কারণ শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা। শহরের বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য সরাসরি ড্রেনে ফেলার কারণে ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় ড্রেনের নিচে নদীর মতো পলি জমে আছে। আবর্জনার স্তূপের কারণে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিক গতিতে নামতে পারছে না। কোথাও অর্ধেক, আবার কোথাও সম্পূর্ণ ড্রেন ময়লা ও পানিতে ঠাসা। জীবনযাত্রা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না।এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বিএম কামাল আহম্মেদ বলেন, পৌরসভা থেকে প্লাবিত এলাকাগুলো পৌর প্রশাসকের নেতৃত্বে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি দ্রুতই পানি নেমে যাবে। মেডিকেল কলেজের পাশে একটি সরু ড্রেন রয়েছে। কিন্তু সেটাকে সম্প্রসারিত করতে দেয়নি এলাকাবাসী। ওই ড্রেনটা সম্প্রসার করা হলে এ সমস্যা আর থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।#