ফরহাদ রহমান,স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাঠের নৌকা জব্দ করা হয়েছে। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে এক ব্যক্তি নৌকা ও ইয়াবার চালান ফেলে সাঁতরে পালিয়ে যায়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর নাজিরপাড়া বিওপির সদস্যরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমার থেকে নাফ নদী অতিক্রম করে ইয়াবার একটি চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে নাজিরপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ বিআরএম-৬ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে বিএসপি পোস্টসংলগ্ন নাফ নদী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
বেলা ১১টার দিকে বিজিবির আভিযানিক দল সেখানে কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নজরদারি শুরু করে। প্রায় ২০ মিনিট পর মিয়ানমার থেকে একটি হস্তচালিত কাঠের নৌকায় করে এক ব্যক্তিকে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বিজিবি সদস্যরা তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করেন। এ সময় ওই ব্যক্তি হঠাৎ দৌড়ে পাশের একটি খালে লাফিয়ে পড়েন। তার শরীরে বিশেষ কৌশলে মোড়ানো ইয়াবার প্যাকেট পানিতে পড়ে যায়। পরে তিনি সাঁতরে পার্শ্ববর্তী এলাকায় পালিয়ে যান।
বিজিবির সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে এলাকা ঘেরাও করে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে পানিতে ভাসমান অবস্থায় ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে পরিত্যক্ত অবস্থায় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি হস্তচালিত কাঠের নৌকা জব্দ করা হয়।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। নাফ নদী ও সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদক পাচারকারীদের তৎপরতা প্রতিহত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জব্দ করা ইয়াবা ও নৌকার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রতিনিধির নাম 


















