ঢাকা ০৪:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরুড়ায় আদ্রা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ ঢাকার ঐতিহাসিক স্থান আর ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না : ডিএসসিসি প্রশাসক দলীয় পরিচয় নয়, অপরাধী হিসেবেই ব্যবস্থা : আইজিপি উখিয়ায় এক লাখ পিস ইয়াবাসহ দুইজন আটক ২বছর পর ভারত থেকে ফিরেএলো ২ তরুণী নারায়ণগঞ্জে তথ্য অধিকার দিবসের আলোচনা সভা: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় তথ্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ : ডিসি নাগরিক অধিকার ফোরামের সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময়: অপরাধ দমনে সবার সহযোগিতা কামনা এসপির শিবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ ফারজানা ইয়াসমিন বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী ও গাছের চারা বিতরণ লালমনিরহাটে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে ৫ জন নিহত, আহত ৩

ঢাকার ঐতিহাসিক স্থান আর ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না : ডিএসসিসি প্রশাসক

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো আর ধ্বংস হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও নিদর্শন সংরক্ষণ করা শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানেরও নৈতিক ও নাগরিক দায়িত্ব।

​মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ওয়ারীতে অবস্থিত ঢাকা খ্রীষ্টিয়ান কবরস্থানের প্রাচীন সমাধিগুলোর সংরক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

​ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমি ‘আদি ঢাকা’র বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য ও রূপ ফিরিয়ে আনার নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আদি ঢাকাকে কেন্দ্র করেই আজকের এই মেগাসিটি গড়ে উঠেছে। এর ঐতিহাসিক স্থানগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। তাই অতীতের কোনো নিদর্শন আর নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।

​ওয়ারী এলাকার অতীত ঐতিহ্য স্মরণ করে তিনি বলেন, একসময় নদীবেষ্টিত যোগাযোগব্যবস্থা ও নগর সুবিধার কারণে ওয়ারী ছিল ঢাকার সবচেয়ে বনেদি ও অভিজাত এলাকা। প্রখ্যাত ব্যক্তিরা এখানে বসবাস করতেন। পাশে অবস্থিত বলধা গার্ডেনসহ পুরো এলাকার পরিবেশ আগের উন্নত ও সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সিটি করপোরেশন কাজ করছে।

​সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সমান অধিকারের প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বাংলাদেশে ‘সংখ্যালঘু’ বলতে কোনো শব্দ নেই; আমরা সবাই পরিচয়ে বাংলাদেশি এবং এ দেশের সমান নাগরিক। আমার যে অধিকার, আমার অন্য ধর্মাবলম্বী বন্ধুরও ঠিক একই অধিকার রয়েছে। আমরা কোনো বিভেদ চাই না; সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পারস্পরিক প্রীতি ও সৌহার্দ্য নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।

​উদ্বোধনের সময় প্রশাসক জানান, ঐতিহ্যবাহী এই কবরস্থানের শান্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা হবে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এখানকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আলোকায়ন ও পরিচ্ছন্নতা জোরদার করা হবে। উক্ত কবরস্থানটি সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ডিএসসিসির তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন তিনি এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আরও অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।

​আদি ঢাকার ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাস্তা সরু হলেও তা পরিচ্ছন্ন রাখা হবে এবং পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করা হবে। এলাকাভিত্তিক শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ভাসমান জনগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তা ও এলাকাবাসীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বরুড়ায় আদ্রা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

ঢাকার ঐতিহাসিক স্থান আর ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না : ডিএসসিসি প্রশাসক

আপডেট সময় : ০৬:৩২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো আর ধ্বংস হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ও নিদর্শন সংরক্ষণ করা শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানেরও নৈতিক ও নাগরিক দায়িত্ব।

​মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ওয়ারীতে অবস্থিত ঢাকা খ্রীষ্টিয়ান কবরস্থানের প্রাচীন সমাধিগুলোর সংরক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

​ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমি ‘আদি ঢাকা’র বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য ও রূপ ফিরিয়ে আনার নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আদি ঢাকাকে কেন্দ্র করেই আজকের এই মেগাসিটি গড়ে উঠেছে। এর ঐতিহাসিক স্থানগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। তাই অতীতের কোনো নিদর্শন আর নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।

​ওয়ারী এলাকার অতীত ঐতিহ্য স্মরণ করে তিনি বলেন, একসময় নদীবেষ্টিত যোগাযোগব্যবস্থা ও নগর সুবিধার কারণে ওয়ারী ছিল ঢাকার সবচেয়ে বনেদি ও অভিজাত এলাকা। প্রখ্যাত ব্যক্তিরা এখানে বসবাস করতেন। পাশে অবস্থিত বলধা গার্ডেনসহ পুরো এলাকার পরিবেশ আগের উন্নত ও সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সিটি করপোরেশন কাজ করছে।

​সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সমান অধিকারের প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বাংলাদেশে ‘সংখ্যালঘু’ বলতে কোনো শব্দ নেই; আমরা সবাই পরিচয়ে বাংলাদেশি এবং এ দেশের সমান নাগরিক। আমার যে অধিকার, আমার অন্য ধর্মাবলম্বী বন্ধুরও ঠিক একই অধিকার রয়েছে। আমরা কোনো বিভেদ চাই না; সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পারস্পরিক প্রীতি ও সৌহার্দ্য নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।

​উদ্বোধনের সময় প্রশাসক জানান, ঐতিহ্যবাহী এই কবরস্থানের শান্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা হবে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এখানকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আলোকায়ন ও পরিচ্ছন্নতা জোরদার করা হবে। উক্ত কবরস্থানটি সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ডিএসসিসির তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন তিনি এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আরও অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।

​আদি ঢাকার ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাস্তা সরু হলেও তা পরিচ্ছন্ন রাখা হবে এবং পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করা হবে। এলাকাভিত্তিক শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ভাসমান জনগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তা ও এলাকাবাসীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।