ঢাকা ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের আত্মত্যাগ জাতির প্রেরণা : রুহুল কবির রিজভী দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী টেকনাফ হোয়াইক্যং বাসে মিলল ২৪০ ক্যান বিয়ার, ১২ বোতল বিদেশি মদ বরুড়ায় দূর্গাপূজা উদ্ যাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা জীবনসায়াহ্নে শতবর্ষী সমসু মিয়া: বহু মানুষের শেষ ঠিকানার কারিগর মৌলভীবাজারের ৭নং চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী শামীম আহমেদের দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা টেকনাফে ৪ লাখ ১০ হাজার ইয়াবা ও ২১ কেজি ৫০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার উখিয়ায় ৪০ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক আটক নরসিংদীর শিবপুরে মোবাইল কোর্ট চলমান থাকবে বললেন সামিউর রহমান সহকারী কমিশনার (ভূমি)

গরু চুরিতে আতঙ্কে সীমান্তের দুই ইউনিয়নের বাসিন্দারা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

সাব্বির হাসান, মাধবপুর: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তবর্তী ২নং চৌমুহনী ও ১নং ধর্মঘর ইউনিয়নে বেড়েই চলেছে গরু চুরির ঘটনা। প্রায় প্রতি রাতেই কোনো না কোনো বাড়িতে চুরির ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কৃষক ও গৃহস্থরা। গত কয়েক মাসে এ দুই ইউনিয়নে অন্তত ১৫টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

সবশেষ বুধবার গভীর রাতে চৌমুহনী ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম হৃদয়ের গোয়ালঘর থেকে ছয়টি গরু চুরি হয়। পরে পাশের বিষ্ণপুর গ্রামের একটি জঙ্গলে গরুগুলো পাওয়া যায়। স্থানীয়দের ধারণা, ভোর হয়ে যাওয়ায় চোরেরা গরুগুলো নিয়ে যেতে পারেনি।

এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে যাদবপুর গ্রামের কৃষক ইমাম হোসনের গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু চুরি হয়। প্রতিদিনের মতো রাতে গরুগুলো গোয়ালঘরে বেঁধে রাখার পর গভীর রাতে চোরেরা দরজা খুলে দুটি গরু নিয়ে যায়।

এ ছাড়া গত ১৭ জুন ধর্মঘর ইউনিয়নের দেবপুর গ্রামের রহমান সরদারের চারটি, রসুলপুর গ্রামের ইয়ামিনের দুটি এবং একই রাতে চৌমুহনী ইউনিয়নের নুরুল্লাপুর গ্রামের মোহাম্মদ কফিজুল মিয়ার দুটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি নুরুল্লাহপুর গ্রামের ফাতেমা বেগমের গোয়ালঘর থেকেও দুটি গরু চুরি হয়েছে।

একের পর এক চুরির ঘটনায় সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে তৈরি হয়েছে চোর আতঙ্ক। সন্ধ্যার পর গোয়ালঘর পাহারা দিতে হচ্ছে কৃষকদের। অনেকেই রাত জেগে নিজেদের গবাদিপশু পাহারা দিচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ চোরচক্র সুযোগ বুঝে রাতের আঁধারে গোয়ালঘরে ঢুকে গরু নিয়ে যাচ্ছে। তারা এলাকায় রাতের টহল জোরদার, স্থানীয়ভাবে পাহারার ব্যবস্থা এবং চোরচক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি। রাতে পুলিশের টহল আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবেও পাহারার ব্যবস্থা করতে হবে।”

কৃষকদের প্রত্যাশা, শুধু টহল বাড়ানো নয়—গরু চুরির সঙ্গে জড়িত চক্রকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। নইলে সীমান্তের এসব গ্রামে গরু চুরির আতঙ্ক আরও বাড়বে, আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন স্বল্প পুঁজি ও পরিশ্রমে গবাদিপশু পালন করা কৃষকরাই।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

গরু চুরিতে আতঙ্কে সীমান্তের দুই ইউনিয়নের বাসিন্দারা

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

সাব্বির হাসান, মাধবপুর: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তবর্তী ২নং চৌমুহনী ও ১নং ধর্মঘর ইউনিয়নে বেড়েই চলেছে গরু চুরির ঘটনা। প্রায় প্রতি রাতেই কোনো না কোনো বাড়িতে চুরির ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কৃষক ও গৃহস্থরা। গত কয়েক মাসে এ দুই ইউনিয়নে অন্তত ১৫টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

সবশেষ বুধবার গভীর রাতে চৌমুহনী ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম হৃদয়ের গোয়ালঘর থেকে ছয়টি গরু চুরি হয়। পরে পাশের বিষ্ণপুর গ্রামের একটি জঙ্গলে গরুগুলো পাওয়া যায়। স্থানীয়দের ধারণা, ভোর হয়ে যাওয়ায় চোরেরা গরুগুলো নিয়ে যেতে পারেনি।

এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে যাদবপুর গ্রামের কৃষক ইমাম হোসনের গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু চুরি হয়। প্রতিদিনের মতো রাতে গরুগুলো গোয়ালঘরে বেঁধে রাখার পর গভীর রাতে চোরেরা দরজা খুলে দুটি গরু নিয়ে যায়।

এ ছাড়া গত ১৭ জুন ধর্মঘর ইউনিয়নের দেবপুর গ্রামের রহমান সরদারের চারটি, রসুলপুর গ্রামের ইয়ামিনের দুটি এবং একই রাতে চৌমুহনী ইউনিয়নের নুরুল্লাপুর গ্রামের মোহাম্মদ কফিজুল মিয়ার দুটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি নুরুল্লাহপুর গ্রামের ফাতেমা বেগমের গোয়ালঘর থেকেও দুটি গরু চুরি হয়েছে।

একের পর এক চুরির ঘটনায় সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে তৈরি হয়েছে চোর আতঙ্ক। সন্ধ্যার পর গোয়ালঘর পাহারা দিতে হচ্ছে কৃষকদের। অনেকেই রাত জেগে নিজেদের গবাদিপশু পাহারা দিচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ চোরচক্র সুযোগ বুঝে রাতের আঁধারে গোয়ালঘরে ঢুকে গরু নিয়ে যাচ্ছে। তারা এলাকায় রাতের টহল জোরদার, স্থানীয়ভাবে পাহারার ব্যবস্থা এবং চোরচক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি। রাতে পুলিশের টহল আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবেও পাহারার ব্যবস্থা করতে হবে।”

কৃষকদের প্রত্যাশা, শুধু টহল বাড়ানো নয়—গরু চুরির সঙ্গে জড়িত চক্রকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। নইলে সীমান্তের এসব গ্রামে গরু চুরির আতঙ্ক আরও বাড়বে, আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন স্বল্প পুঁজি ও পরিশ্রমে গবাদিপশু পালন করা কৃষকরাই।