ঢাকা ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের আত্মত্যাগ জাতির প্রেরণা : রুহুল কবির রিজভী দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী টেকনাফ হোয়াইক্যং বাসে মিলল ২৪০ ক্যান বিয়ার, ১২ বোতল বিদেশি মদ বরুড়ায় দূর্গাপূজা উদ্ যাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা জীবনসায়াহ্নে শতবর্ষী সমসু মিয়া: বহু মানুষের শেষ ঠিকানার কারিগর মৌলভীবাজারের ৭নং চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী শামীম আহমেদের দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা টেকনাফে ৪ লাখ ১০ হাজার ইয়াবা ও ২১ কেজি ৫০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার উখিয়ায় ৪০ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা যুবক আটক নরসিংদীর শিবপুরে মোবাইল কোর্ট চলমান থাকবে বললেন সামিউর রহমান সহকারী কমিশনার (ভূমি)

জীবনসায়াহ্নে শতবর্ষী সমসু মিয়া: বহু মানুষের শেষ ঠিকানার কারিগর

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৬:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

সাব্বির হাসান,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে, চামড়ায় স্পষ্ট শতাব্দীর ভাঁজ। বয়সের হিসেবে পার করেছেন ১১০টি বছর। কিন্তু এ দীর্ঘ জীবনে তাঁর পরিচিতি কেবল বয়োবৃদ্ধ হিসেবে নয়; হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভার শিবপুর গ্রামের সমসু মিয়া মানুষের কাছে পরিচিত এক নিঃস্বার্থ মানবসেবক হিসেবে। জীবনের সিংহভাগ সময় তিনি ব্যয় করেছেন এক চিরন্তন সত্যের সেবায়—মানুষের শেষ ঠিকানা ‘কবর’ খোঁড়ার কাজে। জীবদ্দশায় নিজ হাতে তিনি খনন করেছেন পঞ্চাশেরও বেশি মানুষের কবর।

​গ্রামবাসীর কাছে সমসু মিয়া এক নির্ভরতার প্রতীক। আশপাশের গ্রামে কারও মৃত্যুর খবর পৌঁছালেই কোদাল-শাবল হাতে ছুটে যেতেন তিনি। রোদ-বৃষ্টি বা কনকনে শীত—কোনো প্রতিকূলতাই তাঁকে থামাতে পারেনি। কোনো প্রকার পারিশ্রমিক বা পার্থিব প্রতিদানের আশা ছাড়াই কেবল মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসার তাগিদে তিনি যুগ যুগ ধরে এই দায়িত্ব পালন করেছেন।

​স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্যমতে, গ্রামে যখন কেউ মারা যেত, তখন স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি কবরের পরিমাপ ও মাটি কাটার মূল দায়িত্বে থাকতেন সমসু মিয়া। বহু তরুণকে তিনি শিখিয়েছেন কীভাবে সঠিক নিয়মে কবর খনন করতে হয়। শুধু নিজের গ্রামেই নয়, আশপাশের এলাকা থেকেও ডাক পড়লে বয়সের তোয়াক্কা না করে তিনি ছুটে যেতেন।

​১১০ বছর বয়সে এসে এখন আর শারীরিক সামর্থ্য নেই আগের মতো শক্ত মাটি কাটার। লাঠিতে ভর দিয়ে ৬০ মিটার দুরে মসজিদে জামাতের সাথে এখনো নামাজ পড়েন। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সমসু মিয়া জানান, মৃত্যুর বিষয়টি তাঁকে সবসময় মানবজীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিত। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের আসল পরিচয় মেলে মৃত্যুর পর, আর সেই অন্তিম যাত্রার সঙ্গী হতে পারাই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।

​শিবপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, নিঃস্বার্থ সমাজসেবা ও পরোপকারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত সমসু মিয়া। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তাঁর মুখে কোনো আক্ষেপ নেই; রয়েছে এক প্রশান্তির ছাপ। শতবর্ষী এই মানুষটি আজ পুরো এলাকার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

জীবনসায়াহ্নে শতবর্ষী সমসু মিয়া: বহু মানুষের শেষ ঠিকানার কারিগর

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

সাব্বির হাসান,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে, চামড়ায় স্পষ্ট শতাব্দীর ভাঁজ। বয়সের হিসেবে পার করেছেন ১১০টি বছর। কিন্তু এ দীর্ঘ জীবনে তাঁর পরিচিতি কেবল বয়োবৃদ্ধ হিসেবে নয়; হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভার শিবপুর গ্রামের সমসু মিয়া মানুষের কাছে পরিচিত এক নিঃস্বার্থ মানবসেবক হিসেবে। জীবনের সিংহভাগ সময় তিনি ব্যয় করেছেন এক চিরন্তন সত্যের সেবায়—মানুষের শেষ ঠিকানা ‘কবর’ খোঁড়ার কাজে। জীবদ্দশায় নিজ হাতে তিনি খনন করেছেন পঞ্চাশেরও বেশি মানুষের কবর।

​গ্রামবাসীর কাছে সমসু মিয়া এক নির্ভরতার প্রতীক। আশপাশের গ্রামে কারও মৃত্যুর খবর পৌঁছালেই কোদাল-শাবল হাতে ছুটে যেতেন তিনি। রোদ-বৃষ্টি বা কনকনে শীত—কোনো প্রতিকূলতাই তাঁকে থামাতে পারেনি। কোনো প্রকার পারিশ্রমিক বা পার্থিব প্রতিদানের আশা ছাড়াই কেবল মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসার তাগিদে তিনি যুগ যুগ ধরে এই দায়িত্ব পালন করেছেন।

​স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্যমতে, গ্রামে যখন কেউ মারা যেত, তখন স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি কবরের পরিমাপ ও মাটি কাটার মূল দায়িত্বে থাকতেন সমসু মিয়া। বহু তরুণকে তিনি শিখিয়েছেন কীভাবে সঠিক নিয়মে কবর খনন করতে হয়। শুধু নিজের গ্রামেই নয়, আশপাশের এলাকা থেকেও ডাক পড়লে বয়সের তোয়াক্কা না করে তিনি ছুটে যেতেন।

​১১০ বছর বয়সে এসে এখন আর শারীরিক সামর্থ্য নেই আগের মতো শক্ত মাটি কাটার। লাঠিতে ভর দিয়ে ৬০ মিটার দুরে মসজিদে জামাতের সাথে এখনো নামাজ পড়েন। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সমসু মিয়া জানান, মৃত্যুর বিষয়টি তাঁকে সবসময় মানবজীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিত। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের আসল পরিচয় মেলে মৃত্যুর পর, আর সেই অন্তিম যাত্রার সঙ্গী হতে পারাই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।

​শিবপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, নিঃস্বার্থ সমাজসেবা ও পরোপকারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত সমসু মিয়া। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তাঁর মুখে কোনো আক্ষেপ নেই; রয়েছে এক প্রশান্তির ছাপ। শতবর্ষী এই মানুষটি আজ পুরো এলাকার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।