আলোকিত কাগজ প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকা থেকে অপহৃত এক কিশোরকে উদ্ধার করেছে র্যাব-১১। এ ঘটনায় জড়িত ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে বন্দর থানাধীন চরধলেশ্বরী এলাকার একটি ভুট্টাক্ষেতে অভিযান চালিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার ও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-১১ জানায়, বাংলাদেশ আমার অহংকার—এই স্লোগানকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জঙ্গিবাদ, অবৈধ অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে র্যাব জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, অপহৃত কিশোর ঢাকার আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। প্রায় এক মাস আগে TanTan নামের একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে ‘ইনায়া শেখ’ নামের একটি আইডির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এক পর্যায়ে ওই আইডি থেকে কিশোরকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার চরধলেশ্বরী এলাকায় দেখা করার জন্য প্রলুব্ধ করা হয়।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা ৭টার দিকে কিশোর নির্ধারিত স্থানে পৌঁছালে কিছুক্ষণ পর ৯-১০ জনের একটি দল তাকে জোরপূর্বক তুলে পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করে সঙ্গে থাকা মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয় এবং ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
পরে অপহরণকারীরা ভিকটিমের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবার পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষণিকভাবে বিকাশের মাধ্যমে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পাঠায় এবং একই সঙ্গে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
মামলার প্রেক্ষিতে র্যাব-১১ ভিকটিম উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে র্যাব-১১ সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল চরধলেশ্বরী এলাকার একটি ভুট্টাক্ষেতে অভিযান চালিয়ে অপহৃত কিশোরকে উদ্ধার এবং হানি ট্র্যাপ চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মো. আকাশ (২৪), মো. সিয়াম (২২), মো. ফয়সাল (২৮), সঞ্জয় শীল (২০) ও মো. বায়েজিদ (২৩)। তারা সবাই নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিনিধির নাম 
























