সাব্বির হাসান,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে, চামড়ায় স্পষ্ট শতাব্দীর ভাঁজ। বয়সের হিসেবে পার করেছেন ১১০টি বছর। কিন্তু এ দীর্ঘ জীবনে তাঁর পরিচিতি কেবল বয়োবৃদ্ধ হিসেবে নয়; হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভার শিবপুর গ্রামের সমসু মিয়া মানুষের কাছে পরিচিত এক নিঃস্বার্থ মানবসেবক হিসেবে। জীবনের সিংহভাগ সময় তিনি ব্যয় করেছেন এক চিরন্তন সত্যের সেবায়—মানুষের শেষ ঠিকানা ‘কবর’ খোঁড়ার কাজে। জীবদ্দশায় নিজ হাতে তিনি খনন করেছেন পঞ্চাশেরও বেশি মানুষের কবর।
গ্রামবাসীর কাছে সমসু মিয়া এক নির্ভরতার প্রতীক। আশপাশের গ্রামে কারও মৃত্যুর খবর পৌঁছালেই কোদাল-শাবল হাতে ছুটে যেতেন তিনি। রোদ-বৃষ্টি বা কনকনে শীত—কোনো প্রতিকূলতাই তাঁকে থামাতে পারেনি। কোনো প্রকার পারিশ্রমিক বা পার্থিব প্রতিদানের আশা ছাড়াই কেবল মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসার তাগিদে তিনি যুগ যুগ ধরে এই দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্যমতে, গ্রামে যখন কেউ মারা যেত, তখন স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি কবরের পরিমাপ ও মাটি কাটার মূল দায়িত্বে থাকতেন সমসু মিয়া। বহু তরুণকে তিনি শিখিয়েছেন কীভাবে সঠিক নিয়মে কবর খনন করতে হয়। শুধু নিজের গ্রামেই নয়, আশপাশের এলাকা থেকেও ডাক পড়লে বয়সের তোয়াক্কা না করে তিনি ছুটে যেতেন।
১১০ বছর বয়সে এসে এখন আর শারীরিক সামর্থ্য নেই আগের মতো শক্ত মাটি কাটার। লাঠিতে ভর দিয়ে ৬০ মিটার দুরে মসজিদে জামাতের সাথে এখনো নামাজ পড়েন। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সমসু মিয়া জানান, মৃত্যুর বিষয়টি তাঁকে সবসময় মানবজীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিত। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের আসল পরিচয় মেলে মৃত্যুর পর, আর সেই অন্তিম যাত্রার সঙ্গী হতে পারাই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।
শিবপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, নিঃস্বার্থ সমাজসেবা ও পরোপকারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত সমসু মিয়া। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তাঁর মুখে কোনো আক্ষেপ নেই; রয়েছে এক প্রশান্তির ছাপ। শতবর্ষী এই মানুষটি আজ পুরো এলাকার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।
প্রতিনিধির নাম 


















