ঢাকা ১২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরুড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পাঁচ বছর খেদমত করলেই মাদরাসার খরচে উমরাহ, প্রতিশ্রুতি পূরণে গেলেন পাঁচ উস্তাদ নরসিংদীর আইয়ূব পুর ইউনিয়ন পরিষদে মসজিদ উদ্বোধন করেন নির্বাহী অফিসার মোছাঃ ফারজানা ইয়াসমিন টেকনাফে চেকপোস্টে নোহা থামিয়ে অস্ত্রসহ ৪ জন গ্রেপ্তার মালিক হঠাও, বাগান বাঁচাও’ স্লোগানে উত্তাল চার চা বাগান, মজুরির দাবিতে কর্মবিরতি যশোরে জমি নিয়ে বিরোধে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১ যশোর অভয়নগরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উখিয়ায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জে চুরি করতে গিয়ে মাধবপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৪ নারী আটক যশোরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত সংখ্যা বাড়ছে

মালিক হঠাও, বাগান বাঁচাও’ স্লোগানে উত্তাল চার চা বাগান, মজুরির দাবিতে কর্মবিরতি

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৩:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

সাব্বির হাসান, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: ‘মালিক হঠাও, বাগান বাঁচাও’—এই স্লোগানে বকেয়া মজুরির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের চারটি চা বাগানের শ্রমিকরা। টানা দুই দিন কর্মবিরতি পালন করেও মজুরি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। শ্রমিকদের অভিযোগ, তিন সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। এমনকি আগামী তিন সপ্তাহেও মজুরি পরিশোধ করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লালচাঁন চা বাগানের দুর্গামন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া বাগানগুলো হলো—মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া, চুনারুঘাট উপজেলার লালচাঁন ও দেউন্দি এবং মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মিরতিংগা চা বাগান। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এসব বাগানে প্রায় সাড়ে চার হাজার শ্রমিক রয়েছেন।

সমাবেশে নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক নেত্রী মিরা কৈরী বলেন, শ্রমিকরা মজুরি না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। শ্রমিকদের না বাঁচাতে পারলে বাগানও বাঁচবে না। তাই শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ ও মালিক পরিবর্তনের দাবি জানান তিনি।

শ্রমিক নেতারা জানান, ২০২২ সাল থেকে বাগানগুলোতে মজুরি ও অন্যান্য পাওনা নিয়ে সমস্যা চলছে। এ বিষয়ে বাগান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করেও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি বলে তাঁদের অভিযোগ। বকেয়া মজুরির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ তহবিলের অর্থ ও সরকারি অনুদানের চার হাজার টাকা আটকে থাকার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লালচাঁন চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি লাল সাঁওতাল। বক্তব্য দেন নোয়াপাড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কমেট নায়েক, দেউন্দি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আপন সাঁওতাল, ইউপি সদস্য দুলাল ঘোষ, কার্তিক বাকতি, লক্ষ্মীকান্ত রায় ও শ্রমিক নেতা উজ্জ্বল কুমার দাস।

এদিকে নোয়াপাড়া চা বাগানে গত সোমবার সাপ্তাহিক মজুরি না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফেরেন শ্রমিকরা। পরদিন মঙ্গলবার থেকে তাঁরা কর্মবিরতি শুরু করেন। বাগান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ৮৫০ জন শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন।

নোয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক সোহাগ মাহমুদ এর আগে জানিয়েছিলেন, আর্থিক সংকটের কারণে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য ঋণের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

শ্রমিকদের দাবি, দ্রুত বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় বাগানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন তাঁরা।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বরুড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মালিক হঠাও, বাগান বাঁচাও’ স্লোগানে উত্তাল চার চা বাগান, মজুরির দাবিতে কর্মবিরতি

আপডেট সময় : ১০:১৩:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সাব্বির হাসান, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: ‘মালিক হঠাও, বাগান বাঁচাও’—এই স্লোগানে বকেয়া মজুরির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের চারটি চা বাগানের শ্রমিকরা। টানা দুই দিন কর্মবিরতি পালন করেও মজুরি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। শ্রমিকদের অভিযোগ, তিন সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। এমনকি আগামী তিন সপ্তাহেও মজুরি পরিশোধ করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লালচাঁন চা বাগানের দুর্গামন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া বাগানগুলো হলো—মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া, চুনারুঘাট উপজেলার লালচাঁন ও দেউন্দি এবং মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মিরতিংগা চা বাগান। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এসব বাগানে প্রায় সাড়ে চার হাজার শ্রমিক রয়েছেন।

সমাবেশে নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক নেত্রী মিরা কৈরী বলেন, শ্রমিকরা মজুরি না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। শ্রমিকদের না বাঁচাতে পারলে বাগানও বাঁচবে না। তাই শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ ও মালিক পরিবর্তনের দাবি জানান তিনি।

শ্রমিক নেতারা জানান, ২০২২ সাল থেকে বাগানগুলোতে মজুরি ও অন্যান্য পাওনা নিয়ে সমস্যা চলছে। এ বিষয়ে বাগান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করেও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি বলে তাঁদের অভিযোগ। বকেয়া মজুরির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ তহবিলের অর্থ ও সরকারি অনুদানের চার হাজার টাকা আটকে থাকার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লালচাঁন চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি লাল সাঁওতাল। বক্তব্য দেন নোয়াপাড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কমেট নায়েক, দেউন্দি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আপন সাঁওতাল, ইউপি সদস্য দুলাল ঘোষ, কার্তিক বাকতি, লক্ষ্মীকান্ত রায় ও শ্রমিক নেতা উজ্জ্বল কুমার দাস।

এদিকে নোয়াপাড়া চা বাগানে গত সোমবার সাপ্তাহিক মজুরি না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফেরেন শ্রমিকরা। পরদিন মঙ্গলবার থেকে তাঁরা কর্মবিরতি শুরু করেন। বাগান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ৮৫০ জন শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন।

নোয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক সোহাগ মাহমুদ এর আগে জানিয়েছিলেন, আর্থিক সংকটের কারণে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য ঋণের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

শ্রমিকদের দাবি, দ্রুত বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় বাগানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন তাঁরা।