মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী, ,মৌলভীবাজার :
মৌলভীবাজার পৌরসভা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মোট ৫১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৩৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। বিদ্যালয়টির এবারের পাসের হার ৭৪ দশমিক ৫১ শতাংশ। ফলাফলে দুইজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
এদিকে, আগামীতে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল আরও ভালো করতে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও একাডেমিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্যে বিদ্যালয়ের বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির প্রথম সভায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস এম মেহেদী হাসান বলেন, “ইনশাআল্লাহ আগামীতে আমরা আরও ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ম্যানেজিং কমিটির প্রথম সভায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।”
তিনি জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনার আওতায় ২০২৭ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের দিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হবে। শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ, নিয়মিত পাঠদান, একাডেমিক তদারকি এবং ফলাফল উন্নয়নের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এস এম মেহেদী হাসান আরও বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের ভিত্তি মজবুত করা এবং ধাপে ধাপে তাদের এসএসসি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করে তোলা। আমরা বিশ্বাস করি, পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিদ্যালয়ের ফলাফলে দৃশ্যমান ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
বিদ্যালয়ের বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইখতেখার আহমদ বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছেন। ম্যানেজিং কমিটির গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হলে বিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ ও শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল আহাদ খান বলেন, “২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় আমাদের বিদ্যালয়ের ৭৪ দশমিক ৫১ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে এবং দুইজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। যারা ভালো ফলাফল করেছে, তাদের আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে যারা প্রত্যাশিত ফলাফল করতে পারেনি, তাদের হতাশ না হয়ে ভবিষ্যতের জন্য আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “একটি বিদ্যালয়ের ফলাফল একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রতি ব্যক্তিগত নজরদারি, শিক্ষকদের আন্তরিকতা, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কার্যকর ভূমিকা। আমরা ইতোমধ্যে শিক্ষার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের শুরু থেকেই নিয়মিত একাডেমিক তদারকির আওতায় আনার পাশাপাশি দুর্বল শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের জন্য বিশেষ সহযোগিতার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নয়; বরং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা।”
প্রধান শিক্ষক বলেন, “বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী দিনে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব বলে আমি আশাবাদী। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।”
এছাড়া মৌলভীবাজার পৌরসভা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী বলেন, “আমার প্রিয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। যারা জিপিএ-৫ পেয়েছে এবং যারা উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির প্রতি শুভেচ্ছা রইল। আশা করি, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী দিনে এই বিদ্যালয়ের ফলাফল আরও ভালো হবে এবং প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলবে।”
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের ভালো ফলাফল শুধু পরীক্ষার সময় প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে না। শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা, নিয়মিত তদারকি এবং শিক্ষক, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই মৌলভীবাজার পৌরসভা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়।
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৭৪ দশমিক ৫১ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি দুইজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে আগামী বছরগুলোতে ফলাফল আরও উন্নত করার প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে।
প্রতিনিধির নাম 


















