ফরিদপুরের নগরকান্দার তিতাস শেখ, যিনি ২৮ বছর বয়সী সেনাবাহিনীর সদস্য, টেকনাফে মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে তিতাসের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মা রেখা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারও স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিতাস ছিলেন সবার বড় এবং তিনি ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তিতাসের স্ত্রীকে আগামী ডিসেম্বর মাসে নিজের কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়ন হলো না। সুমাইয়া কান্নায় বিলাপ করতে করতে বলেন, “আমাকেও নিয়ে যাও, আমি কেমনে থাকব!”
মা রেখা বেগম জানান, গত বুধবার রাতে তিতাসের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তিতাস তাকে বলেছিলেন, “আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বিকালে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব, দোয়া কইরো মা।” কিন্তু তিনি জানতেন না যে সেটিই তার শেষ কথা হবে।
আইএসপিআর সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফে অভিযানের সময় তিতাস গুলিবিদ্ধ হন। তাকে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিতাসের মরদেহ রামু সিএমএইচে রাখা হয়েছে এবং তার ছোট ভাই সেনাসদস্য আকরাম হোসেন মরদেহ আনতে সেখানে গেছেন। নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে তিতাসের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রতিনিধির নাম 























