ঢাকা ০৭:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে অবৈধ অটোরিকশা ও ইজিবাইক চলাচল বন্ধে আজ থেকে মাইকিং, আগামী সপ্তাহে অভিযান বরুড়া তারুণ্য যুব সংগঠন কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত টেকনাফে ১ লাখ ইয়াবাসহ সিএনজি চালক গ্রেপ্তার টেকনাফ সীমান্তে ২০ হাজার ইয়াবা জব্দ, নৌকা ফেলে পালাল পাচারকারী আগামী ৭ রবিউল আউয়াল ২১ আগস্ট পটিয়া আন্জুমানে আশেকানে গাউসুল আজম সুলতানপুরীর জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী উখিয়ায় নিখোঁজ রোহিঙ্গা শিশু উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর ১৫নং কালিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি সভাপতি হোসাইন আহম্মদ চৌধুরী তুহিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ভিত্তিক ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ উদ্বোধন কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী

প্রাণিসম্পদ খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্যোগ নিতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৭:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৩৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, প্রাণিসম্পদ খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘উৎপাদন থেকে বিপণন-সব প্রক্রিয়ায় প্রাণিসম্পদ খাতের নীরব অবদান এখন জাতীয় প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তবে এই উৎপাদন বজায় রাখা এবং নির্বিঘ্ন রাখতে পারাই বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক ভিডিও শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, উৎপাদন থেকে বিপণন-সব প্রক্রিয়ায় প্রাণিসম্পদ খাতের নীরব অবদান এখন জাতীয় প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তবে এই উৎপাদন বজায় রাখা এবং নির্বিঘ্ন রাখতে পারাই বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বল্প পুঁজিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, বাণিজ্যিক খামার ও সহায়ক শিল্প গড়ে তোলা, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনসহ সুস্থ, সবল ও মেধাবী জাতি গঠনে প্রাণিজ আমিষ যোগানে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে প্রাণিসম্পদ খাত এখন প্রতিষ্ঠিত।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন উৎপাদনমুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের ফলে দেশে ডিম, দুধ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নাগরিকদের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করছে।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, প্রাণিজাত খাদ্যের অপ্রতুলতা, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স, প্রাণিজ উপজাত ব্যবহার, মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে পরস্পর সংক্রমণযোগ্য রোগসমূহ দমন, ইমারজিং ও রিইমারজিং রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বর্তমান সময়ে প্রাণিসম্পদ খাতের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, সপ্তাহব্যাপী এই উদ্যোগ সরকারের প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবে। পাশাপাশি গবাদিপশু পালনে নতুন নতুন প্রযুক্তি প্রান্তিক খামারিদের মাঝে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করবে, যা দেশের সর্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, দুধ, ডিম ও মাংসের দাম সামান্য বাড়লে নানা ধরনের কথা শোনা যায়। কিন্তু এসব উৎপাদনে জড়িত মানুষের গল্প খুব কমই সামনে আসে।

তিনি বলেন, দুধের ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হলে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়, অথচ প্রান্তিক চাষি ও খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহের মাধ্যমে সেই নির্ভরতা কমানো সম্ভব।

খামারের খাদ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বড় খামারিরা অনেক সময় পশুকে এমন খাদ্য দেন যা শুধু পশুর জন্য নয়, মানবস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।  প্রাণীরা মানুষের ভালোবাসা চায়, নিষ্ঠুরতা নয়-এটিই হওয়া উচিত মূল নীতি।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ে এত বড় পরিসরে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ উদযাপন এবারই প্রথম। এর আগে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ পালিত হলেও তা জাতীয় স্তরে আয়োজন করা হয়নি।

দেশে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও উৎপাদন বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে নিবন্ধিত ৮৫ হাজার ২২৭টি বাণিজ্যিক খামার এবং প্রান্তিক পর্যায়ে প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার পোল্ট্রি খামার রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬ কোটি ৬৮ লাখ ডিম উৎপাদিত হচ্ছে, যেখানে দেশীয় উদ্যোক্তাদের অবদান অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে অবৈধ অটোরিকশা ও ইজিবাইক চলাচল বন্ধে আজ থেকে মাইকিং, আগামী সপ্তাহে অভিযান

প্রাণিসম্পদ খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্যোগ নিতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০১:৪৭:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, প্রাণিসম্পদ খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘উৎপাদন থেকে বিপণন-সব প্রক্রিয়ায় প্রাণিসম্পদ খাতের নীরব অবদান এখন জাতীয় প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তবে এই উৎপাদন বজায় রাখা এবং নির্বিঘ্ন রাখতে পারাই বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক ভিডিও শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, উৎপাদন থেকে বিপণন-সব প্রক্রিয়ায় প্রাণিসম্পদ খাতের নীরব অবদান এখন জাতীয় প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তবে এই উৎপাদন বজায় রাখা এবং নির্বিঘ্ন রাখতে পারাই বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বল্প পুঁজিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, বাণিজ্যিক খামার ও সহায়ক শিল্প গড়ে তোলা, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনসহ সুস্থ, সবল ও মেধাবী জাতি গঠনে প্রাণিজ আমিষ যোগানে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে প্রাণিসম্পদ খাত এখন প্রতিষ্ঠিত।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন উৎপাদনমুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের ফলে দেশে ডিম, দুধ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নাগরিকদের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করছে।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, প্রাণিজাত খাদ্যের অপ্রতুলতা, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স, প্রাণিজ উপজাত ব্যবহার, মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে পরস্পর সংক্রমণযোগ্য রোগসমূহ দমন, ইমারজিং ও রিইমারজিং রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বর্তমান সময়ে প্রাণিসম্পদ খাতের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, সপ্তাহব্যাপী এই উদ্যোগ সরকারের প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবে। পাশাপাশি গবাদিপশু পালনে নতুন নতুন প্রযুক্তি প্রান্তিক খামারিদের মাঝে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করবে, যা দেশের সর্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, দুধ, ডিম ও মাংসের দাম সামান্য বাড়লে নানা ধরনের কথা শোনা যায়। কিন্তু এসব উৎপাদনে জড়িত মানুষের গল্প খুব কমই সামনে আসে।

তিনি বলেন, দুধের ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হলে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়, অথচ প্রান্তিক চাষি ও খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহের মাধ্যমে সেই নির্ভরতা কমানো সম্ভব।

খামারের খাদ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বড় খামারিরা অনেক সময় পশুকে এমন খাদ্য দেন যা শুধু পশুর জন্য নয়, মানবস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।  প্রাণীরা মানুষের ভালোবাসা চায়, নিষ্ঠুরতা নয়-এটিই হওয়া উচিত মূল নীতি।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ে এত বড় পরিসরে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ উদযাপন এবারই প্রথম। এর আগে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ পালিত হলেও তা জাতীয় স্তরে আয়োজন করা হয়নি।

দেশে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও উৎপাদন বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে নিবন্ধিত ৮৫ হাজার ২২৭টি বাণিজ্যিক খামার এবং প্রান্তিক পর্যায়ে প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার পোল্ট্রি খামার রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬ কোটি ৬৮ লাখ ডিম উৎপাদিত হচ্ছে, যেখানে দেশীয় উদ্যোক্তাদের অবদান অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।