ঢাকা ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে শার্শায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনায় এমপি আজীজুর রহমান কক্সবাজারে ৩১ ভরি স্বর্ণালংকারসহ দুই চোরাচালানকারী আটক বেনাপোলে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা নিলেন প্রায় ১৫০০ রোগী, দেওয়া হলো খাবার লেদায় রোহিঙ্গা নারীকে দা দিয়ে কুপিয়ে জখম, বাঙালি যুবক গ্রেপ্তার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বুলবুল হত্যাকারিদের: ফাঁসির দাবিতে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ করেছে ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলক ইসলাম আলমগীর কে শুভেচ্ছা জানালেন নারায়ণগঞ্জ তাঁতি দলের নেতা সিদ্দিকুর রহমান উজ্জল যশোর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল ওষুধ গায়েবের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন বন্দরে প্রবাসীর নির্মাণাধীন বাড়িতে চুরি, পানির মোটর ও নির্মাণসামগ্রী লুট দাম্মাম, রিয়াদ ও জেদ্দায় বিন মিশাল ট্রাভেলসের সম্প্রসারণ: সহজ হচ্ছে প্রবাসীদের ভ্রমণ সেবা কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: সাংবাদিক দেবাশীষসহ ৫ জনের মরদেহ হস্তান্তর

যশোর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল ওষুধ গায়েবের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২৬:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

মনির হোসেন, যশোর প্রতিনিধি: যশোর সরকারি ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের ৫ হাজার পিস কেফুক্লেভ ট্যাবলেট গায়েব হওয়ার অভিযোগের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ওষুধ গায়েবের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার আহসান কবীর বাপ্পী। তবে তদন্ত কমিটিতে কতজন সদস্য রয়েছেন বা কারা রয়েছেন, তা প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুন মেডিসিন স্টোরের রেজিস্টারে স্বাক্ষর করে ৫ হাজার পিস কেফুক্লেভ ট্যাবলেট গ্রহণ করেন ফার্মাসিস্ট জহুরুল ইসলাম। নিয়ম অনুযায়ী মেডিসিন স্টোর থেকে ওষুধ গ্রহণের পর তা হাসপাতালের ফার্মেসিতে জমা এবং রোগীদের মধ্যে বিতরণের হিসাব সংরক্ষণ করার কথা। কিন্তু ফার্মেসির রেজিস্টার পর্যালোচনা করে ওই ৫ হাজার পিস কেফুক্লেভ ট্যাবলেট জমা ও বিতরণের যথাযথ হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, ফার্মেসির ভেতর থেকেই কেফুক্লেভ ট্যাবলেটের হিসাব না মেলার বিষয়টি প্রথমে প্রকাশ্যে আসে। ওই কর্মচারী দাবি করেন, এত বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ শুধু একজনের পক্ষে সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, হাসপাতালের ওষুধ ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। সরকারি ওষুধ সরাসরি বাইরে বিক্রি করার সুযোগ না থাকলেও একটি চক্র কৌশলে ওষুধ মজুদ করে পরে তা ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে দিতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে টেন্ডারের মাধ্যমে এক ওষুধ আবার জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সরবরাহ করা হলে সরকারি অর্থে সেই ওষুধের বিলও পরিশোধ করা হয়। এতে একই ওষুধ ঘুরেফিরে সরকারি ব্যবস্থার মধ্যেই থেকে যাওয়ার পাশাপাশি একটি চক্র আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ওষুধ গায়েবের ঘটনায় তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। কমিটি মেডিসিন স্টোর থেকে ওষুধ গ্রহণ, ফার্মেসিতে জমা, বিতরণ এবং রেজিস্টারে সংরক্ষিত হিসাবসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি ঘটনার সাথে কারও দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার আহসান কবীর বাপ্পী বলেন, ‘কেফুক্লেভ ট্যাবলেট গায়েবের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। তারা গোপনে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেবেন।’

তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটির সদস্যদের নাম আগে থেকেই প্রকাশ হয়ে গেলে বিভিন্ন ধরনের তদবির বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই তদন্তের স্বার্থেই কমিটির সদস্যদের পরিচয় গোপন রাখা হচ্ছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে শার্শায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনায় এমপি আজীজুর রহমান

যশোর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল ওষুধ গায়েবের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট সময় : ০৪:২৬:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

মনির হোসেন, যশোর প্রতিনিধি: যশোর সরকারি ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের ৫ হাজার পিস কেফুক্লেভ ট্যাবলেট গায়েব হওয়ার অভিযোগের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ওষুধ গায়েবের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার আহসান কবীর বাপ্পী। তবে তদন্ত কমিটিতে কতজন সদস্য রয়েছেন বা কারা রয়েছেন, তা প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুন মেডিসিন স্টোরের রেজিস্টারে স্বাক্ষর করে ৫ হাজার পিস কেফুক্লেভ ট্যাবলেট গ্রহণ করেন ফার্মাসিস্ট জহুরুল ইসলাম। নিয়ম অনুযায়ী মেডিসিন স্টোর থেকে ওষুধ গ্রহণের পর তা হাসপাতালের ফার্মেসিতে জমা এবং রোগীদের মধ্যে বিতরণের হিসাব সংরক্ষণ করার কথা। কিন্তু ফার্মেসির রেজিস্টার পর্যালোচনা করে ওই ৫ হাজার পিস কেফুক্লেভ ট্যাবলেট জমা ও বিতরণের যথাযথ হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, ফার্মেসির ভেতর থেকেই কেফুক্লেভ ট্যাবলেটের হিসাব না মেলার বিষয়টি প্রথমে প্রকাশ্যে আসে। ওই কর্মচারী দাবি করেন, এত বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ শুধু একজনের পক্ষে সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, হাসপাতালের ওষুধ ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। সরকারি ওষুধ সরাসরি বাইরে বিক্রি করার সুযোগ না থাকলেও একটি চক্র কৌশলে ওষুধ মজুদ করে পরে তা ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে দিতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে টেন্ডারের মাধ্যমে এক ওষুধ আবার জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সরবরাহ করা হলে সরকারি অর্থে সেই ওষুধের বিলও পরিশোধ করা হয়। এতে একই ওষুধ ঘুরেফিরে সরকারি ব্যবস্থার মধ্যেই থেকে যাওয়ার পাশাপাশি একটি চক্র আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ওষুধ গায়েবের ঘটনায় তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। কমিটি মেডিসিন স্টোর থেকে ওষুধ গ্রহণ, ফার্মেসিতে জমা, বিতরণ এবং রেজিস্টারে সংরক্ষিত হিসাবসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি ঘটনার সাথে কারও দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার আহসান কবীর বাপ্পী বলেন, ‘কেফুক্লেভ ট্যাবলেট গায়েবের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। তারা গোপনে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেবেন।’

তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটির সদস্যদের নাম আগে থেকেই প্রকাশ হয়ে গেলে বিভিন্ন ধরনের তদবির বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই তদন্তের স্বার্থেই কমিটির সদস্যদের পরিচয় গোপন রাখা হচ্ছে।