ঢাকা ০৯:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিশুদের ভূমিকা: একটি পর্যালোচনা টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় তিন মরদেহ উদ্ধার, সেনাসদস্য হত্যায় বিক্ষোভ জামায়াতের দ্বীন আমাদের দ্বীন নয়: বাবুনগরী চীনের বাধায় সফটব্যাংকের ৫৪০ কোটি ডলারের অধিগ্রহণ আটকে গেল ঢাকা মহানগরী উত্তরের নতুন আমির হিসেবে শপথ নিলেন সেলিম উদ্দিন চুয়াডাঙ্গায় দেয়ালে স্লোগান লেখার অভিযোগে ছাত্রীদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ শেখ মুজিব রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলার ভয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি: ছাত্রদল নেতা আউয়াল বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনতে দেওয়া হবে না: নুরুল হক নুর বিদ্যুৎমন্ত্রী টুকুর মন্তব্য: আওয়ামী লীগ মাটির নিচে চলে গেছে খুলনায় রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালো কালি, দেয়ালে পোস্টার

যশোর কেশবপুরে ধানক্ষেতে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় সেখানেই স্বামী-স্ত্রীকে হত্যা

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

মনির হোসেন,যশোর প্রতিনিধি: স্বামী-স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে যশোর কেশবপুরের পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেফতার দুজনের মধ্যে থাকা ‘পরকীয়া সম্পর্ক’ প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় আলেক সরদার ও তার স্ত্রী মাজেদা বেগমকে। এ ঘটনায় গ্রেফতার জেসমিন বেগম ও মোস্তফা কামালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত একটি কাঁচি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতার জেসমিন বেগম (৩৮) কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের সরদারপাড়ার নুর ইসলাম সরদারের স্ত্রী। মোস্তফা কামাল (৪৫) একই এলাকার মৃত কেসমত সরদারের ছেলে। নিহত আলেক সরদার (৪৬) ও তার স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩৮) উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নের মাগুরখালী কমলাপুর গ্রামের বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে জেলা পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম ও কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার জানান, গত ৩১ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কেশবপুর উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের ধানক্ষেতে সেচযন্ত্রের পানি পড়ার স্থানে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী ও এক পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্ত করে। এ ঘটনায় নিহত দম্পতির মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গত ২ নভেম্বর জেসমিন বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে মোস্তফা কামালের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে। পরে তাকেও গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জেসমিনের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, তিনি ও নিহত মাজেদা অভয়নগরের আকিজ জুট মিলে কাজ করতেন। মোস্তফা কামালের সঙ্গে জেসমিনের চার-পাঁচ মাস ধরে সম্পর্ক ছিল। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মিল বন্ধ থাকায় সকালে ঘাস কাটতে মাঠে যান জেসমিন ও মাজেদা।

পথে মোস্তফার সঙ্গে জেসমিনের দেখা হয়। একপর্যায়ে কৌশলে মাজেদার কাছ থেকে সরে গিয়ে অন্য জায়গায় ঘাস কাটতে যান জেসমিন। সেখানে ধানক্ষেতে জেসমিন ও মোস্তফাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন মাজেদা। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা মাজেদা ও তার স্বামী আলেককে কলমিশাক তোলার কথা বলে ঘেরের পাশে নিয়ে যান।

পুলিশের তথ্য, তালতলার ভেড়ির কাছে পৌঁছালে মোস্তফা হাতে থাকা পাসনি (নিড়ানি) দিয়ে আলেককে আঘাত করেন। পরে মাজেদার ওড়না দিয়ে তার গলায় ফাঁস দেওয়া হয়। মারধরের পর আলেককে পুরোনো সেলো মেশিনের একটি গর্তে ফেলে দেওয়া হয়। মাজেদা তখনও শ্বাস নিচ্ছিলেন। এ সময় ঘাস কাটার কাঁচি দিয়ে তার তলপেট ও পায়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর তাকেও ওই গর্তে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশের দাবি, জেসমিন ও মোস্তফার ব্যক্তিগত সম্পর্ক অন্যদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই তারা এ জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটান। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কেশবপুর থানা-পুলিশের একটি দল তদন্ত চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করে। আজ আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিশুদের ভূমিকা: একটি পর্যালোচনা

যশোর কেশবপুরে ধানক্ষেতে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় সেখানেই স্বামী-স্ত্রীকে হত্যা

আপডেট সময় : ১২:৩৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

মনির হোসেন,যশোর প্রতিনিধি: স্বামী-স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে যশোর কেশবপুরের পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেফতার দুজনের মধ্যে থাকা ‘পরকীয়া সম্পর্ক’ প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় আলেক সরদার ও তার স্ত্রী মাজেদা বেগমকে। এ ঘটনায় গ্রেফতার জেসমিন বেগম ও মোস্তফা কামালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত একটি কাঁচি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতার জেসমিন বেগম (৩৮) কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের সরদারপাড়ার নুর ইসলাম সরদারের স্ত্রী। মোস্তফা কামাল (৪৫) একই এলাকার মৃত কেসমত সরদারের ছেলে। নিহত আলেক সরদার (৪৬) ও তার স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩৮) উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নের মাগুরখালী কমলাপুর গ্রামের বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে জেলা পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম ও কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার জানান, গত ৩১ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কেশবপুর উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের ধানক্ষেতে সেচযন্ত্রের পানি পড়ার স্থানে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী ও এক পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্ত করে। এ ঘটনায় নিহত দম্পতির মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গত ২ নভেম্বর জেসমিন বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে মোস্তফা কামালের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে। পরে তাকেও গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জেসমিনের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, তিনি ও নিহত মাজেদা অভয়নগরের আকিজ জুট মিলে কাজ করতেন। মোস্তফা কামালের সঙ্গে জেসমিনের চার-পাঁচ মাস ধরে সম্পর্ক ছিল। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মিল বন্ধ থাকায় সকালে ঘাস কাটতে মাঠে যান জেসমিন ও মাজেদা।

পথে মোস্তফার সঙ্গে জেসমিনের দেখা হয়। একপর্যায়ে কৌশলে মাজেদার কাছ থেকে সরে গিয়ে অন্য জায়গায় ঘাস কাটতে যান জেসমিন। সেখানে ধানক্ষেতে জেসমিন ও মোস্তফাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন মাজেদা। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা মাজেদা ও তার স্বামী আলেককে কলমিশাক তোলার কথা বলে ঘেরের পাশে নিয়ে যান।

পুলিশের তথ্য, তালতলার ভেড়ির কাছে পৌঁছালে মোস্তফা হাতে থাকা পাসনি (নিড়ানি) দিয়ে আলেককে আঘাত করেন। পরে মাজেদার ওড়না দিয়ে তার গলায় ফাঁস দেওয়া হয়। মারধরের পর আলেককে পুরোনো সেলো মেশিনের একটি গর্তে ফেলে দেওয়া হয়। মাজেদা তখনও শ্বাস নিচ্ছিলেন। এ সময় ঘাস কাটার কাঁচি দিয়ে তার তলপেট ও পায়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর তাকেও ওই গর্তে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশের দাবি, জেসমিন ও মোস্তফার ব্যক্তিগত সম্পর্ক অন্যদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই তারা এ জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটান। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কেশবপুর থানা-পুলিশের একটি দল তদন্ত চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করে। আজ আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।