জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও নিহতদের স্মরণে দেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী নিহতদের পরিবারকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিহত শিশুদের ৮৪টি পরিবার এককালীন ৫০ হাজার টাকার প্রাইজবন্ড ও সম্মাননা স্মারক পেয়েছে।
নিহত ও আহতদের পরিবার গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং দ্রুত বিচার দাবি করছে। নিহত শিশুদের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্নতা রয়েছে। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গণঅভ্যুত্থানে নিহত ৮১০ জনের মধ্যে ১৩৩ জন শিশু ছিল। তাদের মধ্যে ৯১ জন শিক্ষার্থী এবং ৪১ জন বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক পেশায় নিয়োজিত ছিল।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (OHCHR) ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১,৪০০ মানুষ নিহত হতে পারে, যাদের ১২ থেকে ১৩ শতাংশ শিশু। প্রতিবেদনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলির শিকার শিশু বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর তথ্য রয়েছে।
নিহত শিশুদের সংখ্যা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে একটি পরিবার রয়েছে, যা তাদের জীবনকে চিরদিনের জন্য বদলে দিয়েছে। লেখক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন প্রশ্ন তুলেছেন, এত শিশু কীভাবে রাজপথে আসল এবং তাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ব্যর্থতা কি ছিল।
লেখক উল্লেখ করেন, আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে যাতে আর কোনো মা-বাবাকে প্রশ্ন করতে না হয়, “আমার সন্তান কার স্বার্থে প্রাণ দিল?” এই ভবিষ্যৎ নির্মাণই হবে নিহত শিশুদের জীবনের প্রতি যথার্থ স্বীকৃতি।
প্রতিনিধির নাম 
























