ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এবার সবাই নির্দিষ্ট সময়ে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে : রিজভী শাহরুখ-আলিয়াদের আনফলো করলেন করণ জোহর মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল ঘোষণা ঈদের আগের রাতে অসহায়দের মাঝে খাবার ও ফল বিতরণ করল বুবলী যুব কল্যাণ সংস্থা পশু কোরবানির সঙ্গে নিজেদের লোভ-লালসাকেও কোরবানি দিতে হবে’: ডিসি জাহিদুল ইসলাম ঈদুল আজহার আনন্দ সহকর্মীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করলেন এসপি মিজানুর রহমান মুন্সী ঈদুল আজহা উপলক্ষে মৌলভীবাজারে জেলা কারাগার ও শিশু পরিবার (বালিকা) পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক সকলের সহযোগিতা পেলে ‘কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তায় নাগরিক সহযোগিতা চাইলেন ডিসি রায়হান কবির

পশু কোরবানির সঙ্গে নিজেদের লোভ-লালসাকেও কোরবানি দিতে হবে’: ডিসি জাহিদুল ইসলাম

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ: পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, মানুষের ভেতরের লোভ, লালসা ও হিংসাকেও কোরবানি দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, “আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

বৃহস্পতিবার ২৮ মে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামাতে মুসল্লিদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে আমি, আপনি এবং আমাদের সন্তানেরা নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। কোরবানির মাধ্যমে আমাদের পাপ, সংকীর্ণতা ও কলুষতা দূর করে সবার জন্য বাসযোগ্য সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় নিতে হবে।”

ঈদকে ঘিরে জেলা প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি জানান, উৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে “দাম কমবে পণ্যের, উৎসব হবে সকলের” শীর্ষক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই ধনী, গরিব ও মধ্যবিত্ত, সব শ্রেণির মানুষ যেন সমানভাবে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। এ জন্য মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি জানান, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে চট্টগ্রামের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন চেইনশপের ব্যবসায়ীরা আন্তরিক সহযোগিতা করেছেন। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

“চট্টগ্রামের একটি সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক ঐতিহ্য রয়েছে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সূচনা অনেক সময় চট্টগ্রাম থেকেই হয়। এবারও ব্যবসায়ীরা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন,” যোগ করেন জেলা প্রশাসক।

বক্তব্যের শুরুতে মুসল্লিদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, “মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের চেতনাকে ধারণ করেই আমরা আজ এখানে একত্রিত হয়েছি।”

দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা সবাই শান্তি ও সম্প্রীতি চাই। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হোক।”

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটির উদ্যোগে জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম মাঠে সকাল ৮টায় ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন নগরীর ধনিয়ালাপাড়াস্থ বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল অধ্যক্ষ ড. সাইয়েদ মুহাম্মদ আবু নোমান।

প্রধান জামাতে অংশ নেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দ মাহবুবুল হক, পাঠান মো. সাইদুজ্জামানসহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং এলাকার সহস্রাধিক মুসল্লি।

জামাতের আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। নামাজ শেষে মুনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করা হয়। পরে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্যরা কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, আলেম ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

এবার সবাই নির্দিষ্ট সময়ে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে : রিজভী

পশু কোরবানির সঙ্গে নিজেদের লোভ-লালসাকেও কোরবানি দিতে হবে’: ডিসি জাহিদুল ইসলাম

আপডেট সময় : ১২:২৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ: পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, মানুষের ভেতরের লোভ, লালসা ও হিংসাকেও কোরবানি দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, “আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

বৃহস্পতিবার ২৮ মে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামাতে মুসল্লিদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে আমি, আপনি এবং আমাদের সন্তানেরা নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। কোরবানির মাধ্যমে আমাদের পাপ, সংকীর্ণতা ও কলুষতা দূর করে সবার জন্য বাসযোগ্য সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় নিতে হবে।”

ঈদকে ঘিরে জেলা প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি জানান, উৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে “দাম কমবে পণ্যের, উৎসব হবে সকলের” শীর্ষক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই ধনী, গরিব ও মধ্যবিত্ত, সব শ্রেণির মানুষ যেন সমানভাবে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। এ জন্য মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি জানান, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে চট্টগ্রামের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন চেইনশপের ব্যবসায়ীরা আন্তরিক সহযোগিতা করেছেন। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

“চট্টগ্রামের একটি সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক ঐতিহ্য রয়েছে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সূচনা অনেক সময় চট্টগ্রাম থেকেই হয়। এবারও ব্যবসায়ীরা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন,” যোগ করেন জেলা প্রশাসক।

বক্তব্যের শুরুতে মুসল্লিদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, “মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের চেতনাকে ধারণ করেই আমরা আজ এখানে একত্রিত হয়েছি।”

দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা সবাই শান্তি ও সম্প্রীতি চাই। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হোক।”

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটির উদ্যোগে জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম মাঠে সকাল ৮টায় ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন নগরীর ধনিয়ালাপাড়াস্থ বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল অধ্যক্ষ ড. সাইয়েদ মুহাম্মদ আবু নোমান।

প্রধান জামাতে অংশ নেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দ মাহবুবুল হক, পাঠান মো. সাইদুজ্জামানসহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং এলাকার সহস্রাধিক মুসল্লি।

জামাতের আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। নামাজ শেষে মুনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করা হয়। পরে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্যরা কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, আলেম ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।