মনির হোসেন, যশোর প্রতিনিধি: স্থলবন্দর বেনাপোলে অন্ধজনে আলোর দিশা ছড়াতে অনুষ্ঠিত হলো বিশাল বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির (আই ক্যাম্প)।
রোববার (২৩ আগস্ট) বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই চক্ষু শিবিরে শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকা থেকে প্রায় ১,৫০০ (পনেরো শত) সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় রোগী সেবা নিতে আগমন করেন। চক্ষু শিবিরে আসা প্রতিটি রোগীর জন্য খাবারের সুব্যবস্থা করা হয়।
রোটারী ক্লাব অব যশোরের উদ্যোগে এবং ‘দ্য ফ্রড হলোস ফাউন্ডেশন’ ও খুলনা বি.এন.এস.বি চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় এই মহতী উদ্যোগের সার্বিক সৌজন্যে ছিলেন রোটারী ক্লাব অব যশোরের সদস্য, বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট এজেন্ট মালিক সমিতির সভাপতি ও বেনাপোল পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি রোটারিয়ান এ.কে.এম আতিকুজ্জামান সনি।
চিকিৎসা শিবিরে রোগীদের ছানি অপারেশন ও লেন্স (IOL) সংযোজনের জন্য রোগী পরীক্ষা ও ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। দিনব্যাপী সেবা প্রদান করেন খুলনা (শিরোমনি) বি.এন.এস.বি (আই) হাসপাতালের অভিজ্ঞ চিকিৎসক দল। চিকিৎসাসেবা দলে ছিলেন সহকারী সার্জন ২ জন, ক্যাম্প পরিচালক ১ জন, ক্যাম্প পরিচালক সহকারী ৪ জন, চশমা সিলেক্টর অফিসার ২ জন এবং প্রয়োজনীয় পরিবহন কর্মী।
সংবাদকর্মীদের সাথে আলাপকালে এই বিশেষ আয়োজনের উদ্যোক্তা এ কে এম আতিকুজ্জামান সনি বলেন,”আমি রোটারীর একজন সদস্য। এই সদস্য হওয়ার সুবাদে আমাদের প্রতিটি সদস্যের এরকম আই ক্যাম্প আয়োজন করার একটি চমৎকার সুযোগ থাকে।
আমাদের অঞ্চলে অনেক দরিদ্র ও নিপীড়িত মানুষ রয়েছেন, যারা অর্থাভাবে চোখের অপারেশন বা ছানির অপারেশন করাতে পারেন না। তাদের সেবায় আমার ইচ্ছা— প্রতি বছরই আমি এই স্থানেই এই বিনামূল্যে চক্ষু শিবির আয়োজন করব।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন,”ইতিমধ্যেই রোটারিয়ানদের সাথে কথা হয়েছে, ভবিষ্যতে আমরা এখানে বিনামূল্যে ডায়াবেটিস ক্যাম্পের আয়োজন করব, যাতে আমাদের রোটারী হাসপাতালেও ডায়াবেটিস চিকিৎসার চালু থাকে যেকোনো শারীরিক টেস্ট বা চিকিৎসায় ৪০% থেকে ৫০% ছাড় পাবেন।
এটি কোনো দয়া বা করুণা নয়, রোটারী ইন্টারন্যাশনাল এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার একটি সামাজিক প্রয়াস মাত্র। তিনি জানান, শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল পৌরবাসীর সামাজিক কল্যাণ ও কল্যাণে তারা এভাবেই নিরবচ্ছিন্নভাবে মানুষের পাশে থাকবেন।”
বেনাপোল, শার্শা বিএনপি,ছাত্রদল,যুবদল,স্বেচ্ছাসেবকদল সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা এবং কর্মীবৃন্দকেও স্কুল, কলেজ শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান পুলিশ, আনসার ও বন্দরের সিকিউরিটি সদস্যদেরকে।
শিবিরে আসা রোগীরা চমৎকার সেবা ও বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা পেয়ে আয়োজকবৃন্দ এবং রোটারী ক্লাবের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রতিনিধির নাম 

















