ঢাকা ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ভোলায় সড়ক ও সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে: নৌপরিবহন মন্ত্রী  সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সাংসদ আজহারুল ইসলাম মান্নানের আরোগ্য কামনায় মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে কারাভোগ শেষে ভারত থেকে দেশে ফিরল ২ কিশোরী টেকনাফে মিয়ানমারে পাচারের আগে ৫ বস্তা সারসহ নৌকা জব্দ অসুস্থ নাজির কামরুল ইসলামের সুস্থতার জন্য সকলের নিকট দোয়া প্রার্থনা :দ্রুত সুস্থতা কামনায় শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মীদের দোয়া সিলেটে ভাড়া বাসায় মৌলভীবাজারের তরুণ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার- আত্মহত্যা নাকি হত্যা! পাসপোর্ট সেবা বিদেশিদের হাতে না দেওয়ার দাবিতে রিয়াদে সংবাদ সম্মেলন নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান অনলাইন জুয়া পরিচালনার অভিযোগে যশোরর ৪ জন আটক সকল প্রকার অপরাধ ও মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে – এসপি হাবিবুর রহমান মৌলভীবাজারে মাদকবিরোধী অভিযান, ৪ জনের কারাদণ্ড

সিলেটে ভাড়া বাসায় মৌলভীবাজারের তরুণ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার- আত্মহত্যা নাকি হত্যা!

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১০:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী :সিলেট নগরের মির্জাজাঙ্গাল এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে পদ্মজিৎ চক্রবর্তী প্রান্ত (৩১) নামে এক তরুণ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও, ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত নয়।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকার স্বপ্নিল-২০ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত প্রান্ত ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। জানা গেছে, আগের দিন রোববার তিনি স্ত্রীসহ ওই বাসায় ওঠেন।

নিহত পদ্মজিৎ চক্রবর্তী প্রান্ত মৌলভীবাজার জেলার ৭নং চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড সাবিয়া গ্রামের পুনেন্দ্র চক্রবর্তীর ছেলে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ছিলেন। তার স্ত্রীও একজন চিকিৎসক।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করা হয়। এ সময় চিকিৎসক প্রান্তকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ। পরে তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির সোমবার রাতে জানান, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

আত্মহত্যার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি বলেন, এ মুহূর্তে কোনো কারণ নিশ্চিত করা যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে মানসিক সমস্যার কারণে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

স্থানীয় এক প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিহত চিকিৎসক ও তার স্ত্রী দুজনই চিকিৎসক। রোববার তারা ওই বাসায় ওঠেন এবং পরদিনই ঘরের ভেতর থেকে প্রান্তের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর বিকেলে ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ ছিল। নিহতের পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

সোমবার রাত পর্যন্ত নিহত চিকিৎসকের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়নি। এ ঘটনায় থানায়ও কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মৃত্যুকে ঘিরে যে প্রশ্নগুলো সামনে আসছে একজন তরুণ চিকিৎসক নতুন বাসায় ওঠার মাত্র একদিনের মাথায় কীভাবে মারা গেলেন—এ ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এসব প্রশ্নের উত্তর অনুমাননির্ভরভাবে না দিয়ে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ঘটনাস্থলের আলামত, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা জরুরি।

এটি আত্মহত্যা, নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টেই মিলতে পারে এই মৃত্যুর প্রকৃত রহস্যের উত্তর।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ভোলায় সড়ক ও সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে: নৌপরিবহন মন্ত্রী 

সিলেটে ভাড়া বাসায় মৌলভীবাজারের তরুণ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার- আত্মহত্যা নাকি হত্যা!

আপডেট সময় : ০৮:১০:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী :সিলেট নগরের মির্জাজাঙ্গাল এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে পদ্মজিৎ চক্রবর্তী প্রান্ত (৩১) নামে এক তরুণ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও, ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত নয়।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকার স্বপ্নিল-২০ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত প্রান্ত ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। জানা গেছে, আগের দিন রোববার তিনি স্ত্রীসহ ওই বাসায় ওঠেন।

নিহত পদ্মজিৎ চক্রবর্তী প্রান্ত মৌলভীবাজার জেলার ৭নং চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড সাবিয়া গ্রামের পুনেন্দ্র চক্রবর্তীর ছেলে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ছিলেন। তার স্ত্রীও একজন চিকিৎসক।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করা হয়। এ সময় চিকিৎসক প্রান্তকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ। পরে তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির সোমবার রাতে জানান, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

আত্মহত্যার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি বলেন, এ মুহূর্তে কোনো কারণ নিশ্চিত করা যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে মানসিক সমস্যার কারণে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

স্থানীয় এক প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিহত চিকিৎসক ও তার স্ত্রী দুজনই চিকিৎসক। রোববার তারা ওই বাসায় ওঠেন এবং পরদিনই ঘরের ভেতর থেকে প্রান্তের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর বিকেলে ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ ছিল। নিহতের পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

সোমবার রাত পর্যন্ত নিহত চিকিৎসকের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়নি। এ ঘটনায় থানায়ও কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মৃত্যুকে ঘিরে যে প্রশ্নগুলো সামনে আসছে একজন তরুণ চিকিৎসক নতুন বাসায় ওঠার মাত্র একদিনের মাথায় কীভাবে মারা গেলেন—এ ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এসব প্রশ্নের উত্তর অনুমাননির্ভরভাবে না দিয়ে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ঘটনাস্থলের আলামত, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা জরুরি।

এটি আত্মহত্যা, নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টেই মিলতে পারে এই মৃত্যুর প্রকৃত রহস্যের উত্তর।