ঢাকা ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ ও পরিচ্ছন্ন নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতা র‍্যালি উখিয়ায় র‌্যাব-১৫ এর অভিযানে ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার রাজবাড়ীতে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকের উপর হামলা ১ দিনে ১৩৫ টন বর্জ্য সরিয়ে রেকর্ড গড়লেন ডিসি জাহিদ ক্যান্সারে আক্রান্ত শিক্ষিকা ইয়াসমিন আরার পাশে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন এসবিএসি ব্যাংকের অর্ধবার্ষিক ব্যবসা উন্নয়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত ১৬০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ যশোরে দুই মাদক কারবারি আটক কুমিল্লার বরুড়ায় আন্তঃস্কুল ইংলিশ ডিবেট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত রাজবাড়ী জেলা কারাগারে হাজতির মৃত্যু পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম কে সাৃমনে রেখে একযোগে ৩৩০০-এর বেশি সরকারি ভবন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু

গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে সরাসরি ট্রেন চালুর প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৩২ বার পড়া হয়েছে

গোলাম রব্বানী,গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকায় সরাসরি যাত্রীবাহী ট্রেন সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল মহাব্যবস্থাপক বরাবর এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে গোপালগঞ্জ জেলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড, নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিসহ বহু সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন, যাদের অধিকাংশের স্থায়ী ঠিকানা গোপালগঞ্জ জেলার বাইরে।

বর্তমানে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সড়কপথ। দীর্ঘ ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার এই যাত্রা সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ। জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত তিন বছরে গোপালগঞ্জে ৩৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬৬ জন নিহত এবং ৪৯২ জন আহত হয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের জানমাল চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

জেলা প্রশাসক তাঁর প্রস্তাবে বলেন, “গোপালগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক ঢাকাগামী শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যাতায়াতের সুবিধা, ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনা এবং সময় ও অর্থ সাশয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গোবরা স্টেশন থেকে ঢাকামুখী অন্তত দুটি সরাসরি যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করা জরুরি।”

বর্তমানে গোপালগঞ্জ শহরের নিকটবর্তী গোবরা রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন একটি ট্রেন রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যায় ও সন্ধ্যায় ফিরে আসে। এই স্টেশনটি বাগেরহাটের মোল্লাহাট থেকে ৫ কিলোমিটার, নড়াইলের কালিয়া উপজেলা থেকে ১২ কিলোমিটার এবং পিরোজপুরের উজিরপুর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কিন্তু ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বেনাপোলগামী ট্রেনগুলো বর্তমানে কাশিয়ানী হয়ে যাওয়ায় গোপালগঞ্জসহ আশপাশের জেলার যাত্রীরা রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জেলা প্রশাসকের এই প্রস্তাবের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

গত ৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এ চিঠি প্রেরণ করা হয়।

প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও নড়াইল জেলার হাজারো মানুষ নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্য ও সাশ্রয়ী ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। এটি শুধু সময় ও অর্থ সাশয় করবে না, বরং সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে মানুষের নিরাপদ যাত্রার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ ও পরিচ্ছন্ন নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতা র‍্যালি

গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে সরাসরি ট্রেন চালুর প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের

আপডেট সময় : ১২:২২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

গোলাম রব্বানী,গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকায় সরাসরি যাত্রীবাহী ট্রেন সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল মহাব্যবস্থাপক বরাবর এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে গোপালগঞ্জ জেলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড, নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিসহ বহু সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন, যাদের অধিকাংশের স্থায়ী ঠিকানা গোপালগঞ্জ জেলার বাইরে।

বর্তমানে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সড়কপথ। দীর্ঘ ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার এই যাত্রা সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ। জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত তিন বছরে গোপালগঞ্জে ৩৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬৬ জন নিহত এবং ৪৯২ জন আহত হয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের জানমাল চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

জেলা প্রশাসক তাঁর প্রস্তাবে বলেন, “গোপালগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক ঢাকাগামী শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যাতায়াতের সুবিধা, ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনা এবং সময় ও অর্থ সাশয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গোবরা স্টেশন থেকে ঢাকামুখী অন্তত দুটি সরাসরি যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করা জরুরি।”

বর্তমানে গোপালগঞ্জ শহরের নিকটবর্তী গোবরা রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন একটি ট্রেন রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যায় ও সন্ধ্যায় ফিরে আসে। এই স্টেশনটি বাগেরহাটের মোল্লাহাট থেকে ৫ কিলোমিটার, নড়াইলের কালিয়া উপজেলা থেকে ১২ কিলোমিটার এবং পিরোজপুরের উজিরপুর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কিন্তু ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বেনাপোলগামী ট্রেনগুলো বর্তমানে কাশিয়ানী হয়ে যাওয়ায় গোপালগঞ্জসহ আশপাশের জেলার যাত্রীরা রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জেলা প্রশাসকের এই প্রস্তাবের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

গত ৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এ চিঠি প্রেরণ করা হয়।

প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও নড়াইল জেলার হাজারো মানুষ নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্য ও সাশ্রয়ী ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। এটি শুধু সময় ও অর্থ সাশয় করবে না, বরং সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে মানুষের নিরাপদ যাত্রার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।