ঢাকা ০৯:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ক্যান্সারে আক্রান্ত শিক্ষিকা ইয়াসমিন আরার পাশে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন এসবিএসি ব্যাংকের অর্ধবার্ষিক ব্যবসা উন্নয়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত ১৬০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ যশোরে দুই মাদক কারবারি আটক কুমিল্লার বরুড়ায় আন্তঃস্কুল ইংলিশ ডিবেট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত রাজবাড়ী জেলা কারাগারে হাজতির মৃত্যু পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম কে সাৃমনে রেখে একযোগে ৩৩০০-এর বেশি সরকারি ভবন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু যশোরে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ যশোর মণিরামপুরে ইমামকে পিটিয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাই নারায়ণগঞ্জকে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার লক্ষ্যে জেলাজুড়ে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু নারায়ণগঞ্জ সদরকে পরিচ্ছন্ন উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রস্তুতিমূলক পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ

পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম কে সাৃমনে রেখে একযোগে ৩৩০০-এর বেশি সরকারি ভবন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ: ‘পরিচ্ছন্ন শহর, সবুজ নগর; প্রফুল্ল মন, সুস্থ জীবন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নান্দনিক ও স্বাস্থ্যকর চট্টগ্রাম গড়ার লক্ষ্যে জেলাব্যাপী মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালির মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের আওতায় জেলার ৩,৩০০-এরও বেশি সরকারি ভবনের ছাদ ও আঙিনা একযোগে পরিষ্কার করার কাজ শুরু করা হয় ।

সকাল ৯টায় সার্কিট হাউজ থেকে শুরু হওয়া র‍্যালিটি কাজির দেউড়ি, চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাব ও রেডিসন ব্লু প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সার্কিট হাউজে গিয়ে শেষ হয়। এরপর কোর্ট হিলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আঙিনা, আইনজীবী ভবন হয়ে কার্যালয়ের ছাদ পর্যন্ত সরাসরি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম।

এছাড়া জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, পরিবেশবাদী এনজিওর প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশ নেন। সমগ্র কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, এই মাসব্যাপী অভিযানে মোট ১৩১টি দপ্তরের ৪১৬টি ভবন, ৮টি আবাসিক এলাকার ১০৮টি ভবন, ৪০৬টি উপজেলা পর্যায়ের ভবন এবং ২,২৯৫টি স্কুল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, ভবনগুলোর ছাদ ও আঙিনায় এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম মাসব্যাপী চলবে। আমরা প্রতিদিন এবং প্রতি শনিবার কত পরিমাণ ময়লা সংগ্রহ হলো তার তথ্য এবং ভবনের ‘আগে-পরে’র চিত্র সংগ্রহ করছি। সে অনুযায়ী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতাকে শুধু সৌন্দর্য নয়, জনস্বাস্থ্য ও মানসিকতার সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন জেলা প্রশাসক।

“সরকার একটি মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। সুস্থ চিন্তার জন্য সুস্থ শরীর ও সুস্থ মন প্রয়োজন। কিন্তু পরিবেশ অস্বস্তিকর থাকলে সেটি সম্ভব নয়। আগামী প্রজন্মের জন্য সুস্থ বাংলাদেশ ও সমাজ গঠনেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি, বলেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

তিনি আরও যোগ করেন, আমরা জোর করে নয়, পরিচ্ছন্নতাকে একটি স্থায়ী অভ্যাসে পরিণত করতে চাই। গ্লোবালাইজেশনের যুগে বিশ্বমঞ্চে পরিবর্তনশীল নতুন বাংলাদেশকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন হিসেবে তুলে ধরাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযানের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পুরো মাসজুড়ে মনিটরিং ব্যবস্থা চালু থাকবে। প্রতি সপ্তাহের অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরি করে তা পর্যালোচনা করা হবে।

‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানকে সামনে রেখে শুরু হওয়া এই উদ্যোগকে নগরবাসী ইতিবাচকভাবেই দেখছেন বলে জানান অভিজ্ঞ মহল।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যান্সারে আক্রান্ত শিক্ষিকা ইয়াসমিন আরার পাশে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন

পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম কে সাৃমনে রেখে একযোগে ৩৩০০-এর বেশি সরকারি ভবন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু

আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ: ‘পরিচ্ছন্ন শহর, সবুজ নগর; প্রফুল্ল মন, সুস্থ জীবন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নান্দনিক ও স্বাস্থ্যকর চট্টগ্রাম গড়ার লক্ষ্যে জেলাব্যাপী মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালির মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের আওতায় জেলার ৩,৩০০-এরও বেশি সরকারি ভবনের ছাদ ও আঙিনা একযোগে পরিষ্কার করার কাজ শুরু করা হয় ।

সকাল ৯টায় সার্কিট হাউজ থেকে শুরু হওয়া র‍্যালিটি কাজির দেউড়ি, চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাব ও রেডিসন ব্লু প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সার্কিট হাউজে গিয়ে শেষ হয়। এরপর কোর্ট হিলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আঙিনা, আইনজীবী ভবন হয়ে কার্যালয়ের ছাদ পর্যন্ত সরাসরি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম।

এছাড়া জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, পরিবেশবাদী এনজিওর প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশ নেন। সমগ্র কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, এই মাসব্যাপী অভিযানে মোট ১৩১টি দপ্তরের ৪১৬টি ভবন, ৮টি আবাসিক এলাকার ১০৮টি ভবন, ৪০৬টি উপজেলা পর্যায়ের ভবন এবং ২,২৯৫টি স্কুল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, ভবনগুলোর ছাদ ও আঙিনায় এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম মাসব্যাপী চলবে। আমরা প্রতিদিন এবং প্রতি শনিবার কত পরিমাণ ময়লা সংগ্রহ হলো তার তথ্য এবং ভবনের ‘আগে-পরে’র চিত্র সংগ্রহ করছি। সে অনুযায়ী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতাকে শুধু সৌন্দর্য নয়, জনস্বাস্থ্য ও মানসিকতার সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন জেলা প্রশাসক।

“সরকার একটি মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। সুস্থ চিন্তার জন্য সুস্থ শরীর ও সুস্থ মন প্রয়োজন। কিন্তু পরিবেশ অস্বস্তিকর থাকলে সেটি সম্ভব নয়। আগামী প্রজন্মের জন্য সুস্থ বাংলাদেশ ও সমাজ গঠনেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি, বলেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

তিনি আরও যোগ করেন, আমরা জোর করে নয়, পরিচ্ছন্নতাকে একটি স্থায়ী অভ্যাসে পরিণত করতে চাই। গ্লোবালাইজেশনের যুগে বিশ্বমঞ্চে পরিবর্তনশীল নতুন বাংলাদেশকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন হিসেবে তুলে ধরাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযানের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পুরো মাসজুড়ে মনিটরিং ব্যবস্থা চালু থাকবে। প্রতি সপ্তাহের অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরি করে তা পর্যালোচনা করা হবে।

‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানকে সামনে রেখে শুরু হওয়া এই উদ্যোগকে নগরবাসী ইতিবাচকভাবেই দেখছেন বলে জানান অভিজ্ঞ মহল।