ঢাকা ১২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী বস্ত্রখাতের সমস্যা সমাধানে বাস্তবভিত্তিক সমন্বিত নীতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির জনগণের শক্তির ওপর নির্ভর করেই বিএনপি রাজনীতি করে: রুহুল কবির রিজভী রূপগঞ্জে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গ্রেফতার-২ টেকনাফে বাল্যবিয়ের আয়োজন, দুই রোহিঙ্গা যুবকের কারাদণ্ড বন্দিদের জন্য মাদকবিরোধী সভা ও গার্মেন্টস প্রশিক্ষণ: ৩ ঘোষণা দিলেন ডিসি মো:রায়হান কবির বরুড়ায় আবু তাহের ফাউন্ডেশনের আন্তঃউপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বেনাপোল থেকে দুরপাল্লার আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ট্রাকপ্রতি ভাড়া বেড়েছে ৪-৫ হাজার নতুন কুঁড়িতে নিবন্ধনে দেশসেরা চট্টগ্রাম প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলো সদর উপজেলা প্রশাসন

৫ জন আটক : জড়িতদের শাস্তির দাবি পটিয়া মাদরাসার মুহতামিমকে হত্যা চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৩:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৩১ বার পড়া হয়েছে

মোঃ সেলিম চৌধুরী পটিয়া( চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার মুহতামিম মাওলানা আবু তাহের নদভীকে একটি সন্ত্রাসী চক্র কর্তৃক হত্যা চেষ্টা করেছে মর্মে অভিযোগ করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) জামিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। মাদরাসার মুহতামিম, শিক্ষকবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুক্রবার ভোর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ জামিয়ার নিরাপত্তা বেষ্টনী টপকে অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। তাদের সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য ছিল জামিয়ার সাধারণ ছুটি চলাকালে মুহতামিমকে হত্যা করে জামিয়া দখল করা। আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত এবং জামিয়ার সচেতন ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মচারীদের তাৎক্ষণিক সাহসী ভূমিকার কারণে একটি ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে জামিয়া রক্ষা পায় । ঘটনায় পাঁচজন হাতেনাতে অস্ত্রসহ আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেন জামেয়া কর্তৃপক্ষ। এতে প্রাথমিকভাবে আটককৃতদের পরিচয়ে বলা হয়-
(১) আজগর হোসেন (কারাতে মাস্টার আজগর)। (২) নুর হুসাইন — বাড়ি বাঁশখালী; খরনা ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষক।(৩) আশরাফ —খরনার স্থানীয় লোক। পূর্বেও জামিয়ার বিরুদ্ধে সংঘটিত বিভিন্ন হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল।
(৪) শোয়াইব জিয়া। (জামিয়ার কোয়াটারে অবস্থানকারী শিক্ষকপুত্র)
(৫) সাঈদ বিন আবুল কালাম। খরনার স্থানীয় লোক। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আটককৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দা, ছুরি, হকিস্টিক, লাঠি, মাস্ক, মারবেলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ঘটনার সময় জামিয়ার বাইরে আরও কিছু দুষ্কৃতিকারী অবস্থান করছিল বলে নির্ভরযোগ্যসূত্রে তারা জানতে পারেন। যারা ভেতরে থাকা সন্ত্রাসীদের আটকের খবর পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাপ্ত তথ্যে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। তাদের স্বীকারিক্ত অনুযায়ী, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ হামযার নেতৃত্বাধীন একটি চক্র পূর্বেও জামিয়া পটিয়ার বিরুদ্ধে একাধিকবার সহিংস ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, যার ধারাবাহিকতায় এই হামলার ঘটনাও সংঘটিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় জামিয়ার বহিষ্কৃত শিক্ষক সাবের মাসূমের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে
দাবি করে পাশাপাশি, এই ঘটনার পেছনে পর্দার আড়ালে আরও শক্তিশালী ইন্ধনদাতা ও মদদদাতা থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে সংবাদ সন্মেলন জানানো হয়। তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।

সংবাদ সম্মেলনে কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করে এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুধু একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা নয়; বরং এটি ধর্মীয় শিক্ষা, শান্তি, নিরাপত্তা ও দেশের নির্বাচনী পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্র। আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া কখনোই অন্যায়, সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের কাছে মাথানত করেনি—ভবিষ্যতেও করবে না,
তারা বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি(১) এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ষড়যন্ত্রকারী ও ইন্ধনদাতাকে দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।(২) জামিয়ার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
(৩) ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ নজরদারি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যতায় জামিয়ার হাজার হাজার শিক্ষার্থী সহ শিক্ষক ও আলেম ওলামাদের জীবন হুমকির মুখে থাকবে।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

৫ জন আটক : জড়িতদের শাস্তির দাবি পটিয়া মাদরাসার মুহতামিমকে হত্যা চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ১০:২৩:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মোঃ সেলিম চৌধুরী পটিয়া( চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার মুহতামিম মাওলানা আবু তাহের নদভীকে একটি সন্ত্রাসী চক্র কর্তৃক হত্যা চেষ্টা করেছে মর্মে অভিযোগ করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) জামিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। মাদরাসার মুহতামিম, শিক্ষকবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুক্রবার ভোর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ জামিয়ার নিরাপত্তা বেষ্টনী টপকে অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। তাদের সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য ছিল জামিয়ার সাধারণ ছুটি চলাকালে মুহতামিমকে হত্যা করে জামিয়া দখল করা। আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত এবং জামিয়ার সচেতন ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মচারীদের তাৎক্ষণিক সাহসী ভূমিকার কারণে একটি ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে জামিয়া রক্ষা পায় । ঘটনায় পাঁচজন হাতেনাতে অস্ত্রসহ আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেন জামেয়া কর্তৃপক্ষ। এতে প্রাথমিকভাবে আটককৃতদের পরিচয়ে বলা হয়-
(১) আজগর হোসেন (কারাতে মাস্টার আজগর)। (২) নুর হুসাইন — বাড়ি বাঁশখালী; খরনা ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষক।(৩) আশরাফ —খরনার স্থানীয় লোক। পূর্বেও জামিয়ার বিরুদ্ধে সংঘটিত বিভিন্ন হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল।
(৪) শোয়াইব জিয়া। (জামিয়ার কোয়াটারে অবস্থানকারী শিক্ষকপুত্র)
(৫) সাঈদ বিন আবুল কালাম। খরনার স্থানীয় লোক। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আটককৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দা, ছুরি, হকিস্টিক, লাঠি, মাস্ক, মারবেলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ঘটনার সময় জামিয়ার বাইরে আরও কিছু দুষ্কৃতিকারী অবস্থান করছিল বলে নির্ভরযোগ্যসূত্রে তারা জানতে পারেন। যারা ভেতরে থাকা সন্ত্রাসীদের আটকের খবর পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাপ্ত তথ্যে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। তাদের স্বীকারিক্ত অনুযায়ী, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ হামযার নেতৃত্বাধীন একটি চক্র পূর্বেও জামিয়া পটিয়ার বিরুদ্ধে একাধিকবার সহিংস ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, যার ধারাবাহিকতায় এই হামলার ঘটনাও সংঘটিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় জামিয়ার বহিষ্কৃত শিক্ষক সাবের মাসূমের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে
দাবি করে পাশাপাশি, এই ঘটনার পেছনে পর্দার আড়ালে আরও শক্তিশালী ইন্ধনদাতা ও মদদদাতা থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে সংবাদ সন্মেলন জানানো হয়। তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।

সংবাদ সম্মেলনে কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করে এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুধু একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা নয়; বরং এটি ধর্মীয় শিক্ষা, শান্তি, নিরাপত্তা ও দেশের নির্বাচনী পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্র। আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া কখনোই অন্যায়, সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের কাছে মাথানত করেনি—ভবিষ্যতেও করবে না,
তারা বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি(১) এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ষড়যন্ত্রকারী ও ইন্ধনদাতাকে দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।(২) জামিয়ার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
(৩) ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ নজরদারি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যতায় জামিয়ার হাজার হাজার শিক্ষার্থী সহ শিক্ষক ও আলেম ওলামাদের জীবন হুমকির মুখে থাকবে।