মুহাম্মদ আলী,সৌদি আরব : বাংলাদেশের পাসপোর্ট সেবা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ বন্ধের দাবিতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৫ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে রিয়াদে প্রবাসী বাংলাদেশি সচেতন মহলের উদ্যোগে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পাসপোর্ট সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রম বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার আগে জাতীয় নিরাপত্তা ও নাগরিক তথ্যের সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ, মোহাম্মদ শাহজালাল ভুট্টো ও সালাউদ্দিন আহমেদ ভূইয়া। এ সময় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মী ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের পাসপোর্ট সেবা ও নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই ধরনের তথ্য আবারও ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তারা বলেন, সৌদি আরবে প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। প্রবাসীদের পাসপোর্ট সেবা সহজ করতে সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রাদেশিক অঞ্চলে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সেবা চালু রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হলে প্রবাসীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, “আজকাল যুদ্ধ শুধু অস্ত্র দিয়ে হয় না, ডেটা দিয়েও হয়। একটি দেশের নাগরিক ডাটাবেজ মানে সেই দেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব।” তাদের মতে, নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে গেলে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তাদের দাবি, বর্তমানে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে পাসপোর্ট সেবা-সংক্রান্ত পাইলট প্রকল্প দেওয়ার উদ্যোগ বা পাঁয়তারা চলছে—এমন আলোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও অবস্থান জানানো প্রয়োজন বলেও তারা দাবি করেন।
বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পাসপোর্ট সেবা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে গেলে তথ্যের গোপনীয়তা, পাসপোর্টের নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের ভাবমূর্তির কথা বিবেচনা করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তারা।
তাদের মতে, পাসপোর্ট সেবা দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হলে দেশের প্রযুক্তি খাতে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং প্রবাসীদের সেবার মানও আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।
এদিকে, পাসপোর্ট সেবা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে না দেওয়ার দাবি জানিয়ে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলোয়ার হোসেনের কাছে গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে রাষ্ট্রদূত মো. দেলোয়ার হোসেন বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দেন। তিনি স্মারকলিপিটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন বলে গণমাধ্যমকর্মীদের আশ্বস্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পাসপোর্ট সেবা দেশীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা এবং নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তরের যেকোনো উদ্যোগ বন্ধ করার দাবি জানানো হয়।
প্রতিনিধির নাম 


















