ঢাকা ১১:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
একই আকাশ, একই বাতাস, একই জল তরঙ্গ, আমরা মিলেমিশে কাজ করব– বেনাপোলে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ৪০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার বরুড়া পৌরসদরের খালপাড়ে বেহাল রাস্তা জনদুর্ভোগ  ৫০ পরিবার, কক্সবাজারে শিশু অপহরণ মামলার মূল আসামি শিমুল গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জে প্রধান নিষ্কাশন খালের তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, জমি উদ্ধার চকরিয়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ডাকাতি-দস্যুতা মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার ৭ দৈনিক জনতা পএিকার বার্তা সম্পাদক হাবিবুর রহমান এর পিতার মৃত্যুতে পটিয়া প্রেসক্লাব শোক পটিয়া মিথ্যা তথ্য দিয়ে  বিএনপি’র  কর্মীকে ফাঁসানোর অভিযোগ: এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া  শার্শার পাঁচ ভুলাট গ্রামে চাঁদা না দেয়ায় সন্ত্রাসী হামলা, বিএনপি কর্মীকে হাতুড়ি পেটা বেনাপোল বন্দরে ৬ কোটি টাকার পণ্য আত্মসাৎ, ১৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা

একই আকাশ, একই বাতাস, একই জল তরঙ্গ, আমরা মিলেমিশে কাজ করব– বেনাপোলে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৮:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

মনির হোসেন,যশোর প্রতিনিধি : একই আকাশ, একই বাতাস, একই জল তরঙ্গ। তাহলে আমরা মিলেমিশে কাজ করব। বাংলাদেশে প্রবেশের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এভাবেই দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার এইচ.ই. শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমাদের যা পপুলেশন আছে ১৪০ কোটি। তার সাথে ২০ কোটি এ্যাড করেছি। ১৬০ কোটি। আমি এখানে যা করতে চাই তা সব এক সঙ্গে হবে। আলাদা ভাবে ভাবছিনা। আমার মনে হচ্ছে না যে আমি বাংলাদেশি। দেখছেন না আমি হেটে চলে আসছি। একই আকাশ একই বাতাস একই। আমরা মিলে মিশে ভিসার সমাধান করবো। শুধু অভিন্ন সীমান্ত নেই, অভিন্ন স্বপ্নও আছে। আমাদের আকাশ এক, বাতাস এক, চ্যালেঞ্জও অনেক ক্ষেত্রে এক। তাই আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। ভালোবাসা আর পারস্পরিক আন্তরিকতার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।

হাইকমিশনার হিসেবে নিজের অগ্রাধিকারের প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমার একমাত্র অগ্রাধিকার হলো বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক। আমরা সবাই ভাই-বোন। আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। প্রয়োজন শুধু ভালোবাসা ও পারস্পরিক আন্তরিকতা। তাহলেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু সীমান্তের নয়। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের সঙ্গেও আমরা যুক্ত। যারা আমাদের ভাই-বোন ও মা—তাদের কল্যাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়লে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তিতেও রূপ নিতে পারে। তিনি যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন।

টুরিস্ট ভিসা চালুর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁর বিবেচনায় রয়েছে এবং এমন একটি উদ্যোগ নেওয়া হবে যাতে সবাই সন্তুষ্ট হয়। তিনি দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের ঢাকাস্থ দূতাবাসে যোগ দিতে বাংলাদেশে এসেছেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এই প্রথম নব নিযুক্ত কোন ভারতীয় হাইকমিশনার সড়ক পথে বাংলাদেশে আসলেন।
আজ শুক্রবার (১২ জুন) বেলা ১২ টার দিকে যশোরের বেনাপোল আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ও তাঁর সহধর্মিণী মিসেস মিনাল ত্রিবেদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।

এ সময় বেনাপোল চেকপোস্টে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে নতুন হাইকমিশনারকে স্বাগত জানাতে ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসীদাস বাধে এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি গৌরব আগরওয়াল, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি চিফ অব প্রটোকল অফিসার আরিফ মাহমুদ উপস্থিত থেকে নবনিযুক্ত হাইকমিশনারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত ও নোম্যান্সল্যান্ডে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সরোয়ার মোহাম্মদ শাহরিয়ার খান, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ, কাস্টমসের সহকারী কমিশনার অঢল গোস্বামী, ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোর্তজা আলী, বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফ হোসেনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা।

ভারতীয় হাইকমিশনার বেনাপোলে প্রবেশের পর ইমিগ্রেশন ও প্রটোকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে তাদের সড়ক পথে ঢাকা নিয়ে যাওয়া হয়। নতুন হাইকমিশনারের আগমনকে কেন্দ্র করে বেনাপোল চেকপোস্ট ও যশোর-ঢাকা মহাসড়কে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

সাবেক হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হওয়া দীনেশ ত্রিবেদী একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। গত ৫ জুন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে হাইকমিশনারের আনুষ্ঠানিকভাবে পত্রাধিকার গ্রহণ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাজনীতিবিদকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে পাঠালেন দিল্লি। তাঁর নিয়োগকে বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। #

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

একই আকাশ, একই বাতাস, একই জল তরঙ্গ, আমরা মিলেমিশে কাজ করব– বেনাপোলে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

একই আকাশ, একই বাতাস, একই জল তরঙ্গ, আমরা মিলেমিশে কাজ করব– বেনাপোলে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

আপডেট সময় : ১০:১৮:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

মনির হোসেন,যশোর প্রতিনিধি : একই আকাশ, একই বাতাস, একই জল তরঙ্গ। তাহলে আমরা মিলেমিশে কাজ করব। বাংলাদেশে প্রবেশের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এভাবেই দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার এইচ.ই. শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমাদের যা পপুলেশন আছে ১৪০ কোটি। তার সাথে ২০ কোটি এ্যাড করেছি। ১৬০ কোটি। আমি এখানে যা করতে চাই তা সব এক সঙ্গে হবে। আলাদা ভাবে ভাবছিনা। আমার মনে হচ্ছে না যে আমি বাংলাদেশি। দেখছেন না আমি হেটে চলে আসছি। একই আকাশ একই বাতাস একই। আমরা মিলে মিশে ভিসার সমাধান করবো। শুধু অভিন্ন সীমান্ত নেই, অভিন্ন স্বপ্নও আছে। আমাদের আকাশ এক, বাতাস এক, চ্যালেঞ্জও অনেক ক্ষেত্রে এক। তাই আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। ভালোবাসা আর পারস্পরিক আন্তরিকতার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।

হাইকমিশনার হিসেবে নিজের অগ্রাধিকারের প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমার একমাত্র অগ্রাধিকার হলো বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক। আমরা সবাই ভাই-বোন। আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। প্রয়োজন শুধু ভালোবাসা ও পারস্পরিক আন্তরিকতা। তাহলেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু সীমান্তের নয়। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের সঙ্গেও আমরা যুক্ত। যারা আমাদের ভাই-বোন ও মা—তাদের কল্যাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়লে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তিতেও রূপ নিতে পারে। তিনি যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন।

টুরিস্ট ভিসা চালুর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁর বিবেচনায় রয়েছে এবং এমন একটি উদ্যোগ নেওয়া হবে যাতে সবাই সন্তুষ্ট হয়। তিনি দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের ঢাকাস্থ দূতাবাসে যোগ দিতে বাংলাদেশে এসেছেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এই প্রথম নব নিযুক্ত কোন ভারতীয় হাইকমিশনার সড়ক পথে বাংলাদেশে আসলেন।
আজ শুক্রবার (১২ জুন) বেলা ১২ টার দিকে যশোরের বেনাপোল আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ও তাঁর সহধর্মিণী মিসেস মিনাল ত্রিবেদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।

এ সময় বেনাপোল চেকপোস্টে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে নতুন হাইকমিশনারকে স্বাগত জানাতে ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসীদাস বাধে এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি গৌরব আগরওয়াল, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি চিফ অব প্রটোকল অফিসার আরিফ মাহমুদ উপস্থিত থেকে নবনিযুক্ত হাইকমিশনারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত ও নোম্যান্সল্যান্ডে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সরোয়ার মোহাম্মদ শাহরিয়ার খান, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ, কাস্টমসের সহকারী কমিশনার অঢল গোস্বামী, ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোর্তজা আলী, বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফ হোসেনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা।

ভারতীয় হাইকমিশনার বেনাপোলে প্রবেশের পর ইমিগ্রেশন ও প্রটোকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে তাদের সড়ক পথে ঢাকা নিয়ে যাওয়া হয়। নতুন হাইকমিশনারের আগমনকে কেন্দ্র করে বেনাপোল চেকপোস্ট ও যশোর-ঢাকা মহাসড়কে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

সাবেক হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হওয়া দীনেশ ত্রিবেদী একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। গত ৫ জুন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে হাইকমিশনারের আনুষ্ঠানিকভাবে পত্রাধিকার গ্রহণ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাজনীতিবিদকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে পাঠালেন দিল্লি। তাঁর নিয়োগকে বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। #