ঢাকা ০১:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টেকনাফ লেদায় পুলিশ অ্যাসল্ট মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার ১১তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ – বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ রাজনীতির মহাপুরুষ সৈয়দ মহসিন আলী নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে যানজট,সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সম্মিলিত উদ্যোগেই সম্ভব যানজটমুক্ত নগর’ -এসপি হাবিবুর রহমান বরুড়ায় সরকারি জায়গায় অনুমতি ছাড়াই গাছ কাটার অভিযোগ বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক সাময়িক বরখাস্ত বরুড়ায় দুস্থ, অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে সরকারি সহায়তার চেক বিতরণ ভারত ও মিয়ানমারের ইলিশ দেদারসে আমদানি হচ্ছে বেনাপোল বন্দর দিয়ে কেজিতে বিক্রি হচ্ছে বাজারে কক্সবাজারে মাইনুদ্দীন রাসেল হত্যা মামলার পলাতক আসামি শাহজাহান গ্রেপ্তার কৃষিপণ্যের আমদানি কমাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি খাতে শেভরনের আরও বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ

১১তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ – বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ রাজনীতির মহাপুরুষ সৈয়দ মহসিন আলী

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৫:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুধী: প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও মৌলভীবাজার-রাজনগর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মহসিন আলীর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সৈয়দ মহসিন আলী ছিলেন মৌলভীবাজারের রাজনীতি, সমাজসেবা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম পরিচিত মুখ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতার কারণে স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন রাজনৈতিক নেতা।

রাজনীতির পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতিও তাঁর ছিল গভীর অনুরাগ। গান ও কবিতা ছিল তাঁর পছন্দের অন্যতম বিষয়। কবি, সাহিত্যিক ও লেখকদের সঙ্গে নিয়মিত আড্ডা দিতেন তিনি। দেশের অনেক খ্যাতিমান সাংবাদিকের সঙ্গেও তাঁর ব্যক্তিগত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। একসময় তিনি ‘বাংলাদেশ টাইমস’-এর প্রকাশনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

কলকাতায় জন্ম, মৌলভীবাজারে বেড়ে ওঠা

বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসিন আলী ১৯৪৮ সালের ১২ ডিসেম্বর কলকাতার আলীপুরে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সৈয়দ আশরাফ আলী ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। তাঁর মা আছকিরুনন্নেছা খানম। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তাঁর পরিবার একসময় মৌলভীবাজার থেকে কলকাতায় চলে যায়। আলীপুরে তাঁদের একটি বড় বাড়ি ছিল। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে সৈয়দ মহসিন আলী ছিলেন সবার বড়।

কলকাতাতেই তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু। তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলে জুনিয়র কেমব্রিজ ও সিনিয়র কেমব্রিজ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশে ফিরে বাংলা মাধ্যমে কিছুদিন পড়াশোনা করেন। এরপর আবার কলকাতায় গিয়ে ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ডিপ্লোমা অর্জন করেন।

মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ

ছাত্রজীবন থেকেই সৈয়দ মহসিন আলী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৭১ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখসমরে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধও হয়েছিলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি মৌলভীবাজারের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক সংগঠক হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

রেডক্রিসেন্ট ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব

১৯৭৬ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত সৈয়দ মহসিন আলী মৌলভীবাজার মহকুমা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দলীয় রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড তাঁকে জেলার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যায়।

তিনবার পৌর চেয়ারম্যান

১৯৮৪ সাল থেকে সৈয়দ মহসিন আলী মৌলভীবাজার পৌরসভায় পরপর তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। স্থানীয় মানুষের প্রত্যক্ষ ভোটে বারবার নির্বাচিত হওয়া তাঁর জনপ্রিয়তার অন্যতম দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

১৯৯২ সালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় তাঁকে শ্রেষ্ঠ পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করে।

সংসদ সদস্য থেকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-রাজনগর-৩ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সৈয়দ মহসিন আলী।

পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি বিভিন্ন প্রকল্পকে আরও বাস্তবমুখী ও বহুমুখী করার উদ্যোগ নেন বলে তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের বিভিন্ন স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে।

সম্মাননা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

সমাজসেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সৈয়দ মহসিন আলী ভারতের নেহরু সাম্য সম্মাননা ও আচার্য দীনেশচন্দ্র সেন সম্মাননা স্বর্ণপদক লাভ করেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মৃত্যুর পর ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রদান করে।

মানুষের ভালোবাসায় অমর

সৈয়দ মহসিন আলীর রাজনৈতিক জীবন ছিল দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময়। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করা থেকে শুরু করে পৌরসভার চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সংসদ সদস্য এবং সরকারের মন্ত্রী—বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

তবে পদ-পদবির বাইরেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর সহজ-সরল সম্পর্ক এবং মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতাই তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছিল। সাহিত্য, সংস্কৃতি, সাংবাদিকতা, রাজনীতি ও সমাজসেবার বিভিন্ন অঙ্গনে তাঁর বিচরণ ছিল বহুমাত্রিক।

২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজার হারায় একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা ও সমাজকর্মীকে। মৃত্যুর এক দশক পেরিয়ে গেলেও তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের স্মৃতি এখনও স্থানীয় মানুষের মাঝে আলোচিত।

আজ তাঁর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসিন আলীকে—যিনি মানুষের জন্য কাজ করাকেই জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছিলেন এবং মানুষের ভালোবাসায় রেখে গেছেন তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবনের স্মৃতি।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফ লেদায় পুলিশ অ্যাসল্ট মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

১১তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ – বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ রাজনীতির মহাপুরুষ সৈয়দ মহসিন আলী

আপডেট সময় : ০৮:৩৫:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুধী: প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও মৌলভীবাজার-রাজনগর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মহসিন আলীর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সৈয়দ মহসিন আলী ছিলেন মৌলভীবাজারের রাজনীতি, সমাজসেবা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম পরিচিত মুখ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতার কারণে স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন রাজনৈতিক নেতা।

রাজনীতির পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতিও তাঁর ছিল গভীর অনুরাগ। গান ও কবিতা ছিল তাঁর পছন্দের অন্যতম বিষয়। কবি, সাহিত্যিক ও লেখকদের সঙ্গে নিয়মিত আড্ডা দিতেন তিনি। দেশের অনেক খ্যাতিমান সাংবাদিকের সঙ্গেও তাঁর ব্যক্তিগত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। একসময় তিনি ‘বাংলাদেশ টাইমস’-এর প্রকাশনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

কলকাতায় জন্ম, মৌলভীবাজারে বেড়ে ওঠা

বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসিন আলী ১৯৪৮ সালের ১২ ডিসেম্বর কলকাতার আলীপুরে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সৈয়দ আশরাফ আলী ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। তাঁর মা আছকিরুনন্নেছা খানম। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তাঁর পরিবার একসময় মৌলভীবাজার থেকে কলকাতায় চলে যায়। আলীপুরে তাঁদের একটি বড় বাড়ি ছিল। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে সৈয়দ মহসিন আলী ছিলেন সবার বড়।

কলকাতাতেই তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু। তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলে জুনিয়র কেমব্রিজ ও সিনিয়র কেমব্রিজ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশে ফিরে বাংলা মাধ্যমে কিছুদিন পড়াশোনা করেন। এরপর আবার কলকাতায় গিয়ে ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ডিপ্লোমা অর্জন করেন।

মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ

ছাত্রজীবন থেকেই সৈয়দ মহসিন আলী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৭১ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখসমরে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধও হয়েছিলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি মৌলভীবাজারের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক সংগঠক হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

রেডক্রিসেন্ট ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব

১৯৭৬ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত সৈয়দ মহসিন আলী মৌলভীবাজার মহকুমা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দলীয় রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড তাঁকে জেলার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যায়।

তিনবার পৌর চেয়ারম্যান

১৯৮৪ সাল থেকে সৈয়দ মহসিন আলী মৌলভীবাজার পৌরসভায় পরপর তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। স্থানীয় মানুষের প্রত্যক্ষ ভোটে বারবার নির্বাচিত হওয়া তাঁর জনপ্রিয়তার অন্যতম দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

১৯৯২ সালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় তাঁকে শ্রেষ্ঠ পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করে।

সংসদ সদস্য থেকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-রাজনগর-৩ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সৈয়দ মহসিন আলী।

পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি বিভিন্ন প্রকল্পকে আরও বাস্তবমুখী ও বহুমুখী করার উদ্যোগ নেন বলে তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের বিভিন্ন স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে।

সম্মাননা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

সমাজসেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সৈয়দ মহসিন আলী ভারতের নেহরু সাম্য সম্মাননা ও আচার্য দীনেশচন্দ্র সেন সম্মাননা স্বর্ণপদক লাভ করেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মৃত্যুর পর ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রদান করে।

মানুষের ভালোবাসায় অমর

সৈয়দ মহসিন আলীর রাজনৈতিক জীবন ছিল দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময়। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করা থেকে শুরু করে পৌরসভার চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সংসদ সদস্য এবং সরকারের মন্ত্রী—বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

তবে পদ-পদবির বাইরেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর সহজ-সরল সম্পর্ক এবং মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতাই তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছিল। সাহিত্য, সংস্কৃতি, সাংবাদিকতা, রাজনীতি ও সমাজসেবার বিভিন্ন অঙ্গনে তাঁর বিচরণ ছিল বহুমাত্রিক।

২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজার হারায় একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা ও সমাজকর্মীকে। মৃত্যুর এক দশক পেরিয়ে গেলেও তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের স্মৃতি এখনও স্থানীয় মানুষের মাঝে আলোচিত।

আজ তাঁর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসিন আলীকে—যিনি মানুষের জন্য কাজ করাকেই জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছিলেন এবং মানুষের ভালোবাসায় রেখে গেছেন তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবনের স্মৃতি।