ঢাকা ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পরিকল্পনা ও সদিচ্ছায় পরিচ্ছন্ন-পরিবেশবান্ধব এলাকা গড়ে তোলা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী জামায়াত নেতারা হাসিনার পথেই হাঁটতে ভালোবাসেন : রিজভী জুলাইয়ের হত্যাচেষ্টার আরেক মামলায় গ্রেপ্তার আনিসুল-পলক সারিকার অচেনা রূপে চমকে গেল ভক্তরা! সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতনভাবে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার মামলার মূল হোতা সলিম উল্লাহ গ্রেপ্তার উখিয়ার হুমায়ুন হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি মরিচ্যায় গ্রেপ্তার বালিয়াকান্দিতে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত উখিয়ায় এক লাখ ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

জামায়াত নেতারা হাসিনার পথেই হাঁটতে ভালোবাসেন : রিজভী

  • প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা অতীতেও শেখ হাসিনার অনুসৃত পথে হেঁটেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতার প্রয়োজনে কখনো বিএনপির সাথে জোট গড়ার চেষ্টা করলেও জামায়াতের নেতারা শেষ পর্যন্ত হাসিনার দেখানো পথেই চলেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আফসার আহমেদ সিদ্দিকীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘জামায়াতের আমির আজকেই বোধ হয় একটা কথা বলেছেন, যে বিএনপি ফ্যাসিস্টদের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তা আমি তাকে বলতে চাই, ফ্যাসিস্টদের পথ কী? কোনটা পথ? একটা দৃষ্টান্ত দেখান।’

রিজভী বলেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের সবকিছু মাফ করে দেওয়া কিংবা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বিএনপির কোনো নেতা বলেননি। বিএনপির প্রধান নেতা তারেক রহমানও এমন কথা বলেননি । অথচ এখন বিএনপির বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্টদের পথে হাঁটার অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে জনগণ চেনে, বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয়, সেই প্রতিশ্রুতি থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হয় না। কিন্তু আপনারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেই প্রতিশ্রুতি আপনারা ইসলামের নামে দিয়েছেন, আল্লাহর নামে দিয়েছেন। অনেক কথা বলছেন মানুষের মনকে জয় করার জন্য। কিন্তু পরক্ষণেই উল্টো কাজ করেছেন।’

রিজভী বলেন, ‘আপনারা অতীতের যত কাজ, সে কাজগুলো কিন্তু আপনারা করেছেন শেখ হাসিনার পথ ধরেই।’

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এরশাদ সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তার অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ ও জামায়াতও এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু পরে আওয়ামী লীগ সে অবস্থান থেকে সরে আসে এবং জামাতও সে অবস্থান থেকে সরে আসে। আপনারা (জামায়াত)তো প্রমাণ রেখেছেন ইতিহাসে। আপনারা হাসিনার পথে হাঁটতে সবচাইতে ভালোবাসেন। ক্ষমতার জন্য কখনো কখনো বিএনপির সঙ্গে জোট করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মনের ভেতরে হাসিনার প্রদর্শিত পথেই আপনারা হাঁটেন।’

রিজভী বলেন, ১৯৯৪-৯৫ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার আন্দোলনেও জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে একই পথে হেঁটেছে। ইতিহাসের এসব উদাহরণ উপেক্ষা করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিএনপির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত অসংখ্য নেতাকর্মীদের গুপ্তহত্যার আত্মদান, স্যাক্রিফাইস এবং ত্যাগের মধ্যে দিয়ে এই দল তৈরি হয়েছে। গণতন্ত্র হচ্ছে তার অভীষ্ট লক্ষ্য। গণতন্ত্র হচ্ছে তার আদর্শিক চেতনা।’

জামায়াতের উদ্দেশে রিজভী বলেন, গণতন্ত্র ও দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে দলটির আদর্শিক অবস্থান কী, তা নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনগুলোতে জামায়াতের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আফসার আহমেদ সিদ্দিকীর সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, আফসার আহমেদকে বড় ভাই বলে ডাকলেও তাদের সম্পর্ক ছিল অনেকটা পিতা-পুত্রের মতো। তার সান্নিধ্য থেকে রাজনীতি বোঝার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও অনেক কিছু শিখেছেন তিনি।

সভায় বিএনপির নার্সেস ও স্বাস্থ্য সহকারী সহসম্পাদক জাহানারা সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক-বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বাস্থ্য-বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম, যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মামুনসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

জামায়াত নেতারা হাসিনার পথেই হাঁটতে ভালোবাসেন : রিজভী

আপডেট সময় : ১০:৪৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা অতীতেও শেখ হাসিনার অনুসৃত পথে হেঁটেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতার প্রয়োজনে কখনো বিএনপির সাথে জোট গড়ার চেষ্টা করলেও জামায়াতের নেতারা শেষ পর্যন্ত হাসিনার দেখানো পথেই চলেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আফসার আহমেদ সিদ্দিকীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘জামায়াতের আমির আজকেই বোধ হয় একটা কথা বলেছেন, যে বিএনপি ফ্যাসিস্টদের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তা আমি তাকে বলতে চাই, ফ্যাসিস্টদের পথ কী? কোনটা পথ? একটা দৃষ্টান্ত দেখান।’

রিজভী বলেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের সবকিছু মাফ করে দেওয়া কিংবা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বিএনপির কোনো নেতা বলেননি। বিএনপির প্রধান নেতা তারেক রহমানও এমন কথা বলেননি । অথচ এখন বিএনপির বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্টদের পথে হাঁটার অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে জনগণ চেনে, বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয়, সেই প্রতিশ্রুতি থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হয় না। কিন্তু আপনারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেই প্রতিশ্রুতি আপনারা ইসলামের নামে দিয়েছেন, আল্লাহর নামে দিয়েছেন। অনেক কথা বলছেন মানুষের মনকে জয় করার জন্য। কিন্তু পরক্ষণেই উল্টো কাজ করেছেন।’

রিজভী বলেন, ‘আপনারা অতীতের যত কাজ, সে কাজগুলো কিন্তু আপনারা করেছেন শেখ হাসিনার পথ ধরেই।’

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এরশাদ সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তার অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ ও জামায়াতও এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু পরে আওয়ামী লীগ সে অবস্থান থেকে সরে আসে এবং জামাতও সে অবস্থান থেকে সরে আসে। আপনারা (জামায়াত)তো প্রমাণ রেখেছেন ইতিহাসে। আপনারা হাসিনার পথে হাঁটতে সবচাইতে ভালোবাসেন। ক্ষমতার জন্য কখনো কখনো বিএনপির সঙ্গে জোট করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মনের ভেতরে হাসিনার প্রদর্শিত পথেই আপনারা হাঁটেন।’

রিজভী বলেন, ১৯৯৪-৯৫ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার আন্দোলনেও জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে একই পথে হেঁটেছে। ইতিহাসের এসব উদাহরণ উপেক্ষা করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিএনপির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত অসংখ্য নেতাকর্মীদের গুপ্তহত্যার আত্মদান, স্যাক্রিফাইস এবং ত্যাগের মধ্যে দিয়ে এই দল তৈরি হয়েছে। গণতন্ত্র হচ্ছে তার অভীষ্ট লক্ষ্য। গণতন্ত্র হচ্ছে তার আদর্শিক চেতনা।’

জামায়াতের উদ্দেশে রিজভী বলেন, গণতন্ত্র ও দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে দলটির আদর্শিক অবস্থান কী, তা নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনগুলোতে জামায়াতের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আফসার আহমেদ সিদ্দিকীর সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, আফসার আহমেদকে বড় ভাই বলে ডাকলেও তাদের সম্পর্ক ছিল অনেকটা পিতা-পুত্রের মতো। তার সান্নিধ্য থেকে রাজনীতি বোঝার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও অনেক কিছু শিখেছেন তিনি।

সভায় বিএনপির নার্সেস ও স্বাস্থ্য সহকারী সহসম্পাদক জাহানারা সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক-বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বাস্থ্য-বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম, যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মামুনসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।