নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁদপুর: চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের একটি কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে নিহতের ছেলে মো. জনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, পারিবারিক ক্ষোভের জেরে তিনি নিজের মা মজিদা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মতলব উত্তর থানা পুলিশ এ তথ্য জানায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন ৯৯৯-এ পাওয়া সংবাদের ভিত্তিতে কলাকান্দা ইউনিয়নের একটি কলাবাগান থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটির মাথার খুলি থেকে চুল খসে পড়েছিল এবং বাম হাত ও হাঁটুর নিচ থেকে বাম পায়ের অংশ বন্য প্রাণীর আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ঘটনাটি সম্পূর্ণ ক্লুলেস হওয়ায় তদন্তে নামে পুলিশ।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় মতলব সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীবের নেতৃত্বে এবং মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে এসআই সাদেক, এসআই মিজান, এসআই রেজাউল ও এএসআই রবিউলকে নিয়ে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লোকেশন বিশ্লেষণ, ম্যানুয়াল সোর্সিং এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তদন্তকারীরা মো. জনিকে শনাক্ত করেন।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে জনি জানান, ছোটবেলা থেকে পারিবারিক নানা কারণে তার মায়ের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়। তিনি ঢাকায় ফল বিক্রেতা হিসেবে কাজ করেন। গত ১৭ জুন তিনি তার মা মজিদা বেগমকে ছেংগারচর বাজার থেকে অটোরিকশাযোগে কলাকান্দা ইউনিয়নের ওই কলাবাগানে নিয়ে যান। সেখানে জমে থাকা পানিতে তাকে চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন একটি দূরবর্তী পুকুরে ফেলে দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত জনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত ও নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মতলব উত্তর থানা ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও ধারাবাহিক তদন্তে ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে মতলব উত্তর থানা পুলিশ। পারিবারিক ক্ষোভের জেরে মাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তার ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত ও নিহতের মোবাইল ফোনও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
প্রতিনিধির নাম 


















