আলোকিত কাগজ প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের চার সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হওয়ার পরও ভুক্তভোগী পরিবার উল্টো মামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে রাস্তার গর্তে বালু দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাদল ভূঁইয়ার সঙ্গে স্থানীয় নজরুল ইসলাম ও তার লোকজনের বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে নজরুল ও তার ছেলে সহ কয়েকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাদল ভূঁইয়া, তার ভাই, ছেলে ও ভাতিজার ওপর হামলা চালায়। এতে তারা গুরুতর আহত হন।
আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানেও দ্বিতীয় দফায় হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সে সময় আটক দুইজনকে রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় বাদল ভূঁইয়ার ছেলে বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
অন্যদিকে, ১৭ মার্চ নজরুল পক্ষ থেকে পাল্টা একটি মামলা দায়ের করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এ পাল্টা মামলাকে প্রাধান্য দিচ্ছে এবং তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বাদল ভূঁইয়া ও তার পরিবারই প্রকৃত ভুক্তভোগী। তারা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় নজরুল পক্ষ উল্টো মামলা করে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আহত বাদল ভূঁইয়া জানান, “নজরুল তার বাড়ির কাজের জন্য রাস্তা নষ্ট করে ফেলেছিল। আমি সেখানে বালু দিলে সে আমাকে গালিগালাজ করে। প্রতিবাদ করায় সে তার ছেলে ও লোকজন নিয়ে আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। হাসপাতালে নেওয়ার পরও তারা হামলা করে। এখন উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম বলেন, “মারামারির ঘটনায় তারা ১২ তারিখে মামলা করেছে, আমরা করেছি ১৭ তারিখে। কোনো টাকা-পয়সা দিয়ে মামলা করা হয়নি।”
রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সবুজেল হোসেন বলেন, “উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। দুই পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টাকা নিয়ে মামলা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।”
প্রতিনিধির নাম 




















