ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‎সিদ্ধিরগঞ্জে ৫৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী , ডাকাতিসহ গ্রেফতার ৪ বহর থামিয়ে অ্যাম্বুলেন্সকে পথ করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজ নিয়ে খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার : পানিসম্পদ মন্ত্রী ফ্ল্যাট জালিয়াতি: টিউলিপসহ দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাল শাপলা চত্বরের ঘটনায় বিচার ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি শিবিরের বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর সেরা এডুকেশন হাব : শিক্ষামন্ত্রী সমাজ সেবক দিদারুল আলম এর চাচা নুরুল হক ফারুকী মৃত্যুতে বিভিন্ন মহলের শোক যানজট নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে যশোর ট্রাফিক পুলিশ ৫ মাদকসেবী ও কারবারির জেল-জরিমানা নারায়ণগঞ্জ সদরে ‘মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ প্রকল্পের মনিটরিং ও মতবিনিময় সভা

শাপলা চত্বরের ঘটনায় বিচার ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি শিবিরের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে তৎকালীন আওয়ামী সরকার কর্তৃক সংঘটিত বর্বরোচিত ও নৃশংস গণহত্যার বিচার এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

মঙ্গলবার (০৫ মে) ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে এই দাবি জানান।

এতে নেতারা বলেন, ‌‌‘আজ থেকে ১৩ বছর আগে, ৫ মে গভীর রাতে শাপলা চত্বরে নিরস্ত্র আলেম- ওলামা ও তৌহিদী জনতার ওপর রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে যে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। তৎকালীন আধিপত্যবাদী শক্তির প্রত্যক্ষ মদত ও বামপন্থী গোষ্ঠীর গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় শাহবাগে যে মব সন্ত্রাস শুরু হয়েছিল, তার মূল লক্ষ্য ছিল এ দেশের দেশপ্রেমিক নেতৃত্বকে নির্মূল করে একদলীয় শাসন কায়েম করা এবং নাস্তিক্যবাদী অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের হাজার বছরের ইসলামী চিন্তা-চেতনা ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে ধ্বংস করা।’

নেতারা আরও বলেন, ‘বামপন্থী নাস্তিক গোষ্ঠীর ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ড ও আল্লাহ-রাসূলের (সা.) অবমাননার প্রতিবাদে সমবেত হওয়া শান্তিকামী মানুষের ওপর গভীর রাতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে ফ্যাসিস্ট সরকার গণহত্যা চালায়। পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবিসহ প্রায় সাড়ে ৭ হাজার সদস্যের বিশাল বাহিনী এবং আওয়ামী ক্যাডাররা সম্মিলিতভাবে নিরস্ত্র আলেম ও মাদ্রাসা ছাত্রদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। দেড় লাখ রাউন্ড গোলাবারুদ ব্যবহার করে তারা শাপলা চত্বরকে এক বীভৎস মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছিল।

আঞ্জুমানে মফিদুলের তথ্য মতে, সে সময় অন্তত ২২৯টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করা হয়, যা সে রাতের ভয়াবহতার অকাট্য প্রমাণ। এই নৃশংসতা ৫ মে রাতেই থেমে থাকেনি; পরদিন নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশে প্রতিবাদী জনতার ওপর গুলি চালিয়ে আরও ৩৪ জনকে শহীদ করা হয়। বিরোধী দলের নেতাকর্মীসহ আলেম-ওলামাদের নামে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দিয়ে অবর্ণনীয় জুলুম করা হয়েছে।’

বিচারের দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হলেও, শাপলা চত্বরের সেই নৃশংস গণহত্যার বিচার আজ অবধি নিশ্চিত না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। এই বিচারহীনতার দীর্ঘসূত্রতার কারণে শহীদ পরিবারগুলো বছরের পর বছর ধরে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘শাপলা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম কর্তব্য। আমরা অবিলম্বে একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে গণহত্যার প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ, একইসঙ্গে গণহত্যার মাস্টারমাইন্ড, হুকুমদাতা এবং তাদের সঙ্গে জড়িত খুনিদের দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।’

 

 

 

 

 

 

 

ট্যাগস :

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

‎সিদ্ধিরগঞ্জে ৫৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী , ডাকাতিসহ গ্রেফতার ৪

শাপলা চত্বরের ঘটনায় বিচার ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি শিবিরের

আপডেট সময় : ১১:৩৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে তৎকালীন আওয়ামী সরকার কর্তৃক সংঘটিত বর্বরোচিত ও নৃশংস গণহত্যার বিচার এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

মঙ্গলবার (০৫ মে) ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে এই দাবি জানান।

এতে নেতারা বলেন, ‌‌‘আজ থেকে ১৩ বছর আগে, ৫ মে গভীর রাতে শাপলা চত্বরে নিরস্ত্র আলেম- ওলামা ও তৌহিদী জনতার ওপর রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে যে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। তৎকালীন আধিপত্যবাদী শক্তির প্রত্যক্ষ মদত ও বামপন্থী গোষ্ঠীর গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় শাহবাগে যে মব সন্ত্রাস শুরু হয়েছিল, তার মূল লক্ষ্য ছিল এ দেশের দেশপ্রেমিক নেতৃত্বকে নির্মূল করে একদলীয় শাসন কায়েম করা এবং নাস্তিক্যবাদী অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের হাজার বছরের ইসলামী চিন্তা-চেতনা ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে ধ্বংস করা।’

নেতারা আরও বলেন, ‘বামপন্থী নাস্তিক গোষ্ঠীর ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ড ও আল্লাহ-রাসূলের (সা.) অবমাননার প্রতিবাদে সমবেত হওয়া শান্তিকামী মানুষের ওপর গভীর রাতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে ফ্যাসিস্ট সরকার গণহত্যা চালায়। পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবিসহ প্রায় সাড়ে ৭ হাজার সদস্যের বিশাল বাহিনী এবং আওয়ামী ক্যাডাররা সম্মিলিতভাবে নিরস্ত্র আলেম ও মাদ্রাসা ছাত্রদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। দেড় লাখ রাউন্ড গোলাবারুদ ব্যবহার করে তারা শাপলা চত্বরকে এক বীভৎস মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছিল।

আঞ্জুমানে মফিদুলের তথ্য মতে, সে সময় অন্তত ২২৯টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করা হয়, যা সে রাতের ভয়াবহতার অকাট্য প্রমাণ। এই নৃশংসতা ৫ মে রাতেই থেমে থাকেনি; পরদিন নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশে প্রতিবাদী জনতার ওপর গুলি চালিয়ে আরও ৩৪ জনকে শহীদ করা হয়। বিরোধী দলের নেতাকর্মীসহ আলেম-ওলামাদের নামে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দিয়ে অবর্ণনীয় জুলুম করা হয়েছে।’

বিচারের দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হলেও, শাপলা চত্বরের সেই নৃশংস গণহত্যার বিচার আজ অবধি নিশ্চিত না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। এই বিচারহীনতার দীর্ঘসূত্রতার কারণে শহীদ পরিবারগুলো বছরের পর বছর ধরে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘শাপলা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম কর্তব্য। আমরা অবিলম্বে একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে গণহত্যার প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ, একইসঙ্গে গণহত্যার মাস্টারমাইন্ড, হুকুমদাতা এবং তাদের সঙ্গে জড়িত খুনিদের দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।’